
মে মাস থেকে আজারবাইজান ও তুরস্কে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিম এশিয়ার এই দুটি দেশ ভারতীয় পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। সরাসরি বিমান যোগাযোগ ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রের কারণে পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর কারণে এই দুই দেশের প্রতি ভারতের পর্যটকদের আগ্রহ কমে গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজারবাইজানে মে থেকে অগাস্টের মধ্যে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা ৫৬ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের এই সময়ে পর্যটকদের সংখ্যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় পর্যটক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তুরস্কে একই সময়ে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা ১.৩৬ লক্ষ থেকে কমে ৯০,৪০০ হয়েছে। ডিজিসিএ-র পরিসংখ্যানও দেখাচ্ছে, ২০২৫ সালে সরাসরি বিমানে আজারবাইজান ও তুরস্কে যাওয়া ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা কমেছে।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২২ এপ্রিল হামলার পর পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালানো হয়। এর পর দু’দেশের মধ্যে চার দিন ধরে সেনা সংঘর্ষ চলে এবং ১০ মে সংঘর্ষবিরতি হয়। সেই সময় আজারবাইজান ও তুরস্ক সরাসরি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায়। ভারতের পর্যটকদের মধ্যে তখন থেকেই অনীহা তৈরি হয়।
এর ফলে পর্যটন খাতেও প্রভাব পড়েছে। আজারবাইজান পর্যটন থেকে ভারতের পর্যটক নির্ভর দেশের তালিকায় উপরের সারিতে থাকলেও হঠাৎ সংখ্যা কমায় চূড়ান্ত অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে। তুরস্কের পর্যটন ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। মে মাসের ঘটনা থেকে এখনও ভারতীয় পর্যটকরা সেই দুই দেশ এড়িয়ে চলছেন।
আজারবাইজান ও তুরস্কে ভারতীয় পর্যটকের হ্রাস শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির নয়, দুই দেশের সম্পর্ক এবং পর্যটন শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
