
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা মহম্মদ ইউনূসের জমানায় দেশটির কূটনৈতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও আদানপ্রদান ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে, বিশেষত ধর্মীয় আদর্শ ও সংগঠনের স্তরে।
সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন পাকিস্তানের মার্কাজি জামায়াত আহলে হাদিসের সাধারণ সম্পাদক ইবটিসাম ইলাহী জাহির। আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত বিশাল ইসলামী সম্মেলনে যোগ দেবেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ইসলামি সংগঠনগুলির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হলেও রাজনৈতিক মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
পাকিস্তানের এই বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতার উপস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক বাংলাদেশে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে এমন সময়ে এই সফর, যখন সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ইউনূস, যিনি তথাকথিত ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনের নামে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ উঠছে।
ইবটিসাম ইলাহী জাহিরের জামায়াত আহলে হাদিস সংগঠনটি পাকিস্তানে সালাফি মতাদর্শের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। সেই আদর্শ ও নেটওয়ার্ক এখন বাংলাদেশেও প্রভাব বিস্তার করছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা।
অন্যদিকে, ইউনূস সরকারের কূটনৈতিক নীতিতেও সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদের প্রতি উষ্ণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ধর্মীয় সংযোগের আড়ালে দুই দেশের সম্পর্ক যে নতুন মাত্রা পাচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে ঢাকায় কূটনৈতিক মহলে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের ধর্মীয় সংগঠনের প্রভাব ও সফর ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
