
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গরে রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের কাইজার আহমেদ দাবি করছেন, ভাঙ্গরে সাধারণ মানুষ শওকত মোল্লার সঙ্গে নেই, মূলত কয়েকজন চোর ও স্বার্থপর নেতাই তাঁর পাশে রয়েছেন। কাইজারের অভিযোগ, শওকত মোল্লা শুধু লাশের রাজনীতি চালাচ্ছেন এবং ভাঙ্গরে এসে শুধু হিংসা ও হত্যা ঘটাচ্ছেন।
কাইজার আরও জানিয়েছেন, তাঁর অফিসেও হামলা হয়েছে এবং নিজের প্রাণের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে রয়েছে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ভাঙ্গরে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য আরও বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে, আরাবুল ইসলামও শওকত মোল্লার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, ভাঙ্গরের দলটি একসময় তারা নিজেদের হাতেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে পুরনো সদস্যদের দূরে সরিয়ে শুধুমাত্র কয়েকজন তোলাবাজকে নিয়ে দল চালাচ্ছেন শওকত মোল্লা। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
রাজনীতিবিদদের মত, আগামী ২০২৬-এর নির্বাচনে শওকত মোল্লা ছাড়া ভাঙ্গরে লড়াই হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্বন্দ্ব ভাঙ্গরের রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে উভয় পক্ষের কর্মকাণ্ড নিয়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাজনৈতিক মহলে ধারণা, শওকত মোল্লার ওপর চরম চাপে কাইজার আহমেদ ও আরাবুল ইসলাম নতুন রাজনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নেবেন। এদিকে, ভাঙ্গরে ভোট এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভাঙ্গরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে অস্থির। শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত অভিযোগ এবং পুলিশি নীরবতার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়াচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই দ্বন্দ্ব কিভাবে গড়াবে, তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
