
২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কার টিম বাসের উপর হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসবাদীরা। প্রায় ১৭ বছর পর সেই ভয়ই তাড়া করছে জয়বর্ধনে-সাঙ্গাকারার উত্তরসূরিদের। এই মুহূর্তে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে রাওয়ালপিন্ডিতে রয়েছে শ্রীলঙ্কা দল। মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসলামাবাদ আদালতের সামনে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। আহত ২৭। এই ঘটনার জেরে ভীত লঙ্কান ক্রিকেটাররা দেশে ফেরার আর্জি জানালে তা খারিজ করে দিয়েছে সে দেশের বোর্ড। এমনকি এই হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে, কেউ ফিরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্নটা চলে আসছে স্বাভাবিকভাবেই। ক্রিকেট কি ক্রিকেটারদের জীবনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ? মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বেঁকে বসেন শ্রীলঙ্কা দলের মোট ৮ জন সদস্য। বুধবার তাঁদের উদ্দেশ্য এক নির্দেশিকা জারি করে বোর্ড জানিয়েছে, ক্রিকেটার-সহ সাপোর্ট স্টাফদের কেউ যদি দেশে ফিরতে চান তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারিভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশিকা থেকেই পরিষ্কার, অতীতে কী হয়েছে তার সঙ্গে বর্তমানকে এক করে দেখতে নারাজ শ্রীলঙ্কা।
২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে হামলার পর দীর্ঘকাল ক্রিকেট বন্ধ ছিল পাকিস্তানে। স্বভাবতই শ্রীলঙ্কা বোর্ডের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। আরও জোরদার নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি শেষ দুটি ওয়ানডে একদিন করে পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। কিন্তু শ্রীলঙ্কা দল কি এর পরেও নিরাপদ? মাত্র দিন কয়েক আগেই পাক ক্রিকেটার নাসিম শাহের বাড়িতে হামলার খবর সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে ইসলামাবাদের বিস্ফোরণের কোনও যোগসূত্র না থাকলেও বেআব্রু হয়ে গিয়েছে নিজের দেশেই পাক ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার করুণ ছবিটা। সেখানে সফরকারী দলকে মানসিক নিরাপত্তা দেবে কে? নিজেদের দেশের বোর্ডই যদি চরিথ আশালঙ্কাদের পাশে না দাঁড়ায়, তা হলে কে দাঁড়াবে?
