
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা এখনও শুরু হয়নি, কিন্তু রাজ্যের গণতন্ত্র ইতিমধ্যেই এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী। প্রথমবারের মতো রাজ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছে। মোট ৪৯.৮৯ কোটি ভোটের মধ্যে ২.৫১ কোটি ভোট দিয়েছেন নারী ভোটার, যেখানে পুরুষদের ভোট ২.৪৭ কোটির কিছু বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৪.৩ লাখ ভোটে এগিয়ে নারীরা।
এবারের ভোটে মোট উপস্থিতি ৬৬.৯১ শতাংশ, যা বিহারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নারী ভোটের হার ৭১.৬ শতাংশ, পুরুষদের ৬২.৮ শতাংশ। গত এক দশকের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ সাল থেকে ক্রমাগত বেড়েছে নারীদের ভোটদানের হার ২০১৫, ২০২০ এবং ২০২৪-এর নির্বাচনে এই প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে শুধু শতাংশ নয়, সংখ্যায়ও এগিয়ে গিয়ে তারা রেকর্ড গড়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বিগত কয়েক বছরে শিক্ষার প্রসার, আত্মসহায়তা গোষ্ঠীর (জীবিকা) বিস্তার, ও নানা সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান দিয়েছে। প্রায় ১.৪ কোটি জীবিকা সদস্য গ্রামীণ মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে, যা এবার রাজনৈতিক সচেতনতায় রূপ নিয়েছে।
গ্রামের পাশাপাশি শহরেও দেখা গেছে তরুণী ও প্রথমবারের ভোটারদের উৎসাহ। অনেক পুরুষ শ্রমিকের বাইরে কর্মসংস্থানের কারণে গ্রামে রয়ে যাওয়া নারীরাই এখন ভোটে মুখ্য ভূমিকা নিচ্ছেন।
রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, এবার থেকে বিহারের নির্বাচনী সমীকরণে জাতি বা ধর্ম নয়, বরং নারী ভোটই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তাদের প্রত্যাশা এখন উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও জীবনের মানোন্নয়ন ঘিরে। ফল যাই হোক, স্পষ্ট যে বিহারের গণতন্ত্রে নারীরা এবার এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন নিঃশব্দে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে।
