
সিএএ আবেদনকারীদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ঘিরে বিজেপির অন্দরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এক বিজেপি বিধায়ক দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে জানতে চান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা কি ২০২৬ সালের ভোটে অংশ নিতে পারবেন? এই প্রশ্নেই শোরগোল পড়ে যায় বৈঠকে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
সূত্রের খবর, ওই বিধায়ক জানান, সিএএ-র আওতায় যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা এখন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারছেন না। এতে ভবিষ্যতের নির্বাচনে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। রাজ্য নেতৃত্ব তাঁকে আশ্বস্ত করে জানায়, দিল্লি নেতৃত্ব বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে এই প্রশ্ন একেবারে নতুন নয়। আগেও ‘আত্মদীপ’ নামে একটি সংস্থা কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল, যাতে আবেদনকারীদের ভোটাধিকার স্বীকৃত করার দাবি জানানো হয়। আদালত সেই মামলা খারিজ করে জানায়, প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে।
বিজেপির ভেতরে এই নতুন বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, সিএএ-তে আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ বিজেপির সমর্থক বলে ধরা হয়। ভোটাধিকারের অনিশ্চয়তা তৈরি হলে, সেই ভোটব্যাঙ্কে টান পড়তে পারে। দলের একাংশ মনে করছে, দ্রুত সমাধান না হলে ২০২৬-এর ভোটে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
বৈঠকের পরে রাজ্য নেতৃত্ব বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই বিষয়টিকে বিজেপির রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখাতে শুরু করেছে। সবমিলিয়ে, সিএএ-র পর এবার ভোটাধিকার নিয়েই চাপের মুখে পড়ল গেরুয়া শিবির।
