
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে জেফ্রি এপস্টেইনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন তদন্ত শুরু হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এপস্টেইন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জড়িত এবং তাই এটি ডেমোক্র্যাটদের সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রধান জে ক্লেটনকে মানহাটনের প্রধান ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এই তদন্ত চালানো হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত এলো কংগ্রেসের কমিটি হাজার হাজার নথি প্রকাশ করার দুই দিন পর, যেখানে ট্রাম্প ও এপস্টেইনের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। ট্রাম্প আগে থেকেই এপস্টেইন কাণ্ডের প্রভাব ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের লক্ষ্য করেছেন। এদিকে, তদন্তের আওতায় বিল ক্লিনটন, ল্যারি সামার্স এবং লিঙ্কডইন প্রতিষ্ঠাতা রেইড হফম্যানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তের আগে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছিল যে এপস্টেইনের কোনো “ক্রিমিনাল ক্লায়েন্ট তালিকা” পাওয়া যায়নি এবং প্রমাণ নেই যে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন। তবে ট্রাম্প তার সমর্থকদের কাছে এ বিষয়টিকে রাজনৈতিক চাপ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এপস্টেইন ২০১৯ সালে আত্মহত্যার আগে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সামাজিক ও পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন। জেপি মরগান ২০২৩ সালে এপস্টেইনের শিকারদের জন্য ২৯০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে। যদিও এপস্টেইনের অভিযোগের সঙ্গে কোনো পরিচিত ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিল না, ট্রাম্পের উদ্যোগে আবার নতুন তদন্তের সূচনা হলো।
তদন্তের নেতৃত্বে থাকা প্রসিকিউটর ক্লেটন রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন এবং ট্রাম্পের প্রথম দফার হোয়াইট হাউজে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস আগামী সপ্তাহে এই বিষয়টি নিয়ে ভোট নেবে, যাতে এপস্টেইনের সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া যায়।
এই ঘটনায় মার্কিন রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ছে এবং ট্রাম্পের সমালোচনার মাত্রা নতুনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
