
কলকাতার রিপন স্ট্রিট থেকে তিহাড় জেল থেকে প্যারোলে ছাড়া এক পলাতক বন্দিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ৩৮ বছর বয়সী সোহরাবের বিরুদ্ধে ছয় থেকে সাতটি খুন এবং ২০টির বেশি অপরাধের মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে কলকাতায় পৌঁছে দিল্লি পুলিশ কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তল্লাশি পরিচালনা করে।
সূত্রে জানা গেছে, সোহরাব মূলত লখনউয়ের বাসিন্দা। গত জুনে তিহাড় থেকে প্যারোলে ছাড়া পান, কিন্তু প্যারোল শেষ হলেও জেলে ফেরেননি। পলাতক অবস্থায় তিনি কলকাতায় এসে গাড়ি চালানোর কাজ শুরু করেন। অভিযোগ, এক ঘণ্টার মধ্যে তিনটি খুনের সঙ্গে তার নাম জড়িত। এছাড়া, দিল্লি ও লখনউয়ে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ডাকাতির মামলাও রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার ভাইও অপরাধে যুক্ত।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা কলকাতার পুলিশকে তথ্য সরবরাহ করে এবং তল্লাশিতে সাহায্যের অনুরোধ করে। মঙ্গলবার দুপুরে রিপন স্ট্রিটে অভিযান চালিয়ে সোহরাবকে গ্রেফতার করা হয়। কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই অভিযান নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর সোহরাবকে দিল্লি পুলিশ নিয়ে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রিপন স্ট্রিটের আশেপাশের এলাকা পুলিশি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সোহরাবের পলাতক থাকা ও কলকাতায় অবস্থান অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকারিতাকে নতুন আলোচনার বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে এমন ব্যক্তি যে একাধিক খুন ও ডাকাতি মামলায় যুক্ত, তার পলাতক থাকা ন্যায্য তদন্ত ও তদারকির প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দিল্লি ও কলকাতা পুলিশের সমন্বয়ে এই সফল অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন সমন্বিত প্রচেষ্টা আরও কার্যকর এবং জরুরি হয়ে উঠবে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোহরাব গ্রেফতারের মাধ্যমে একদিকে অপরাধের সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি রোধ হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা নিশ্চিন্তি দিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশি সমন্বয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ অপরাধ দমন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
