
আন্ধ্রপ্রদেশের মারেদুমিল্লি এলাকায় মাওবাদীদের সঙ্গে নতুন এক সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছে প্রসিদ্ধ মাওবাদী নেতা মাদভি হিদমা নিহত হওয়ার একদিন পর। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারীও রয়েছেন। পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
নিহতদের মধ্যে একজন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন মেতুরি জোখা রাও, ডাকনাম ‘টেক’ শঙ্কর। তিনি আন্ধ্র–উড়িষ্যা সীমান্ত অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং প্রযুক্তি, অস্ত্র তৈরী ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘর্ষটি মাদভি হিদমা হত্যার পর নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে, এনটিআর, কৃষ্ণা, কাকিনাডা, কনাসিমা ও এলুরু জেলা থেকে ৫০ জন মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি আন্ধ্রপ্রদেশের ইতিহাসে এক বৃহত্তম গ্রেপ্তারি অভিযান।
নিরাপত্তা বাহিনী ৪৫টি অস্ত্র, ২৭২ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, ৭৫০ গ্রাম তার এবং অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করেছে। তারা চতুর্ভুজ প্রদেশ থেকে মাওবাদীদের চলাফেরা ও লুকানোর স্থান পর্যবেক্ষণ করার পর এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
মাওবাদী কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের অভিযান দেশজুড়ে মাওবাদী আন্দোলনের উপর বড় ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেতাদের ধ্বংস ও বড় সংখ্যায় গ্রেপ্তারির কারণে মাওবাদী কার্যক্রম ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসছে।
মারেদুমিল্লি অভিযান সম্পর্কিত আরও তথ্য জানার জন্য পুলিশের প্রতিবেদনের অপেক্ষা রয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মাওবাদী কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনী উভয় পক্ষের মনোযোগ এখনো এ অঞ্চলের দিকে কেন্দ্রিত রয়েছে।
