
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতিকে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কোনও বাধ্যতামূলক সময়সীমা আরোপ করা যাবে না। বৃহস্পতিবার পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, সংবিধান ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা রাখে। সেই নমনীয়তায় বাধ্যতামূলক সময়সীমা চাপানো হলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। প্রধান বিচারপতি বি আর গবাই নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি সুর্যকান্ত, বিক্রম নাথ, পি এস নারসিমহা ও এ এস চাঁদুরকর উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর একটি রেফারেন্সের প্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। রাষ্ট্রপতি জানতে চেয়েছিলেন, আদালত কি রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও বিলের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে কি না। বিশেষত তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের সঙ্গে সংঘটিত বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন ওঠে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সংবিধান রাজ্যপালের সামনে তিনটি বিকল্প রেখেছে – বিলে সম্মতি দেওয়া, পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো বা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য সংরক্ষণ। এই তিনটির বাইরে অন্য কোনও বিকল্প নেই। আদালত মনে করিয়েছে, রাজ্যপালের অসীম ক্ষমতা নেই, তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য বিল আটকে রাখতে পারবেন না।
আদালত সতর্ক করেছে, দীর্ঘসূত্রিতা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং গণতন্ত্রের কাঠামো দুর্বল করে। তবে রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতির মতো সংবিধানিক পদাধিকারীদের ওপর কঠোর সময়সীমা চাপানো ভারতের সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ফলে আদালত বিলের অনির্দিষ্টকালের দেরি রোধের জন্য নির্দেশ দিলেও কোনও বাধ্যতামূলক সময়সীমা নির্ধারণের পথে যায়নি। এ সিদ্ধান্তে দেশের সংবিধানিক কাঠামোর ভারসাম্য ও ক্ষমতার বিভাজন রক্ষা পেয়েছে।
