
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে তিনি ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি দুই দেশকে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়ে বাধ্য করেছিলেন যাতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করে। তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, “আমরা যুদ্ধ করব না।”
ট্রাম্প এই দাবি মে মাস থেকে ৬০-এর বেশি বার পুনরায় করেছেন, যদিও ভারত সবসময়ই কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ অস্বীকার করেছে। তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই বিতর্ক মিটিয়েছি। ভারত ও পাকিস্তানকে বলেছিলাম, তুমি যাই কর, তবে আমি তোমাদের ওপর শুল্ক বসাচ্ছি। পারমাণবিক যুদ্ধ বন্ধ করুন, লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টের সামনে এই কথাটি নিশ্চিত করেছিলেন। ট্রাম্পের মতে, তিনি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধ রোধ করেছেন।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি মূলত দুই দেশের সেনা প্রধানদের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত হয়েছিল। ভারতের ‘অপারেশন সিন্ধুর’ নামক অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানের দখলকৃত অঞ্চলে সন্ত্রাস অবকাঠামোতে আঘাত হানার পরই এই সমঝোতা হয়।
ট্রাম্পের এই দাবি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের দাবি বেশির ভাগ সময়ই স্বয়ংকেন্দ্রিক এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল নেই। তবে ট্রাম্প নিজে এই কার্যক্রমকে নিজের কূটনৈতিক দক্ষতার ফল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
এছাড়া, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরের সময় তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টিকে তুলে ধরেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতেও একইভাবে ‘শুল্ক কূটনীতি’ ব্যবহার করেছেন।
ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই স্পষ্ট করেছে যে, এই শান্তি আলোচনার ব্যপারে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ঘটেনি। তবে ট্রাম্পের ধারাবাহিক দাবির ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
