
কর্নাটকের হাভেরি জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় এক প্রসূতির করিডোরে সন্তানের জন্ম এবং নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপি কড়া আক্রমণ শানিয়েছে।
৩০ বছরের রূপা করবন্নানাভার শ্রমবেদনা শুরু হলে পরিবার তাঁকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। অভিযোগ, প্রসূতি বিভাগে বেড খালি না থাকায় তাঁকে ভর্তি করা হয়নি। ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতে বসিয়ে রাখতে হয়। এসময় প্রসব যন্ত্রণা চরমে উঠলে তিনি ওয়াশরুমের দিকে এগোচ্ছিলেন। সেখানেই আকস্মিকভাবে সন্তানের জন্ম হয় এবং নবজাতক মাটিতে পড়ে গুরুতর আঘাত পায়। মুহূর্তেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, বহুবার অনুরোধ করেও ডাক্তার ও নার্সদের কাছ থেকে কোনও তৎপরতা মেলেনি। জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসাকর্মীরা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
জেলা সার্জন পি. আর. হাভানুর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। উপকমিশনার, মহিলা ও শিশু কল্যাণ আধিকারিক, গাইনিকোলজিস্ট এবং প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের দাবি, প্রসব ওয়ার্ডে তিনজন রোগী ভর্তি থাকায় রূপাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।
এদিকে বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড না থাকা সরকারের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। তাঁর মতে, মৌলিক স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাবই নবজাতকের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
ঘটনাটি সামনে আসতেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, রোগী পরিষেবা এবং সরকারি হাসপাতালের দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে জনতা ও রূপার পরিবার।
