
বঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হল মুখ্যমন্ত্রী চিঠি পাঠানোর পরপরই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা সুরে উত্তপ্ত হল রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তুলেছিলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে চালানো এসআইআর প্রক্রিয়া শুধু অগোছালই নয়, বিপজ্জনকও। সাম্প্রতিক সময়ে দুই বুথ লেভেল অফিসারের মৃত্যু ও একাধিক কর্মীর অসুস্থতাকে তিনি এই অতিরিক্ত চাপের ফল বলে উল্লেখ করেন। তাই কমিশনের কাছে তিনি এই পুরো উদ্যোগ আপাতত স্থগিত করার অনুরোধ জানান।
কিন্তু শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান আসলে বহু বছরের অবৈধ ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার চেষ্টারই রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছেন যে নির্বাচন শেষে আবার তাঁরা সরকারের অধীনস্থ হয়ে পড়বেন। এতে কমিশনের নির্দেশ মানতে অনীহা বাড়ে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি মনে করেন, এমন আচরণ শাসনব্যবস্থার উপর সরাসরি চাপ তৈরি করে।
বিরোধী দলনেতা আরও দাবি করেছেন, এসআইআর কোনও নতুন প্রক্রিয়া নয়। এর ইতিহাস স্বাধীনতার প্রথম দশক থেকেই। অতীতের বিভিন্ন সংস্করণে সংশোধিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই বহু নেতা নিজ নিজ নির্বাচনী সাফল্য পেয়েছেন। তাই এখন এই প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া আর কিছু নয় বলে তাঁর মত।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, গত এক দশকে মৃত, দ্বৈত ও বিভ্রান্তিকর নাম মিলিয়ে সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যা বিপুল হারে বেড়েছে। শুভেন্দু জানান, তিনি ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে লক্ষাধিক সন্দেহভাজন নামের তালিকা জমা দিয়েছেন। তাঁর আবেদন, কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে এসআইআর শেষ করা উচিত। প্রকৃত ভোটারের অধিকার রক্ষা করতে হলে এবং ভুয়ো নাম মুছে রাজ্যকে স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে ফেরাতে হলে এই প্রক্রিয়াই একমাত্র পথ বলে তিনি মনে করেন।
