
দেশের শীর্ষ আদালতের ‘প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স’ মামলার নির্দেশকে স্বাগত জানালেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি উল্লেখ করেছেন, একজন রাজ্যপাল শুধুমাত্র সরকারের ‘রাবার স্ট্যাম্প’ নন এবং সংবিধান অনুসারে রাজভবন ও বিধানসভার মধ্যে সমন্বয়ের যে ভূমিকা রয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আজ আরও দৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করেছে, রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল কোনও বিল আটকে রাখার ক্ষেত্রে সময়সীমা আরোপ করা সংবিধানসম্মত নয়। তবে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, যদি বিনা কারণে কোনও বিল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে, তখন সীমিত ক্ষমতার অধীনে আদালত একটি সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারে। প্রধান বিচারপতি বিআর গবাই নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালকে প্রতিটি বিলের ক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের মতামত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজভবনে চারটি বিল আছে, যা নিয়ে সরকার সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়া কয়েকটি বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে, আর তিনটি বিল এখনও বিচারাধীন। তিনি দাবি করেছেন, রাজভবনে কোনও বিল অহেতুক আটকে নেই।
রাজ্যপালের কথায়, সংবিধান নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও নিযুক্ত রাজ্যপালকে একটি ‘লক্ষ্মণরেখা’ অনুসরণ করতে বলে, যা সুপ্রিম কোর্ট পুনরায় শক্তিশালী করেছে। এই নির্দেশ রাজভবনের কার্যপ্রণালীকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিভি আনন্দ বোসের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজভবন ও বিধানসভার মধ্যে সমন্বয়কে আরও কার্যকর করবে এবং শাসনব্যবস্থায় সময়মিতি ও দায়িত্ববোধের একটি সুস্পষ্ট মানদণ্ড তৈরি করবে। রাজ্যপালের দৃষ্টিতে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে, কোনও বিল নীরবভাবে আটকে থাকার বিষয়টি আর থাকবেনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
