
ফিলিপিন্সে ভুয়া পরিচয়ে মেয়র হওয়া চীনা নাগরিক অ্যালিস গুয়োকে মানব পাচারের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ম্যানিলার আঞ্চলিক আদালত জানায়, গুয়োসহ মোট আটজনকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ গুয়ো একটি চীনা পরিচালিত অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনা করতেন, যেখানে শতাধিক কর্মীকে জোরপূর্বক কাজ করানো হত এবং অমানবিক নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হত।
৩৫ বছর বয়সী গুয়োকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তিনি নিজেকে ফিলিপিনা বলে পরিচয় দিয়ে উত্তরের শহর বামবান-এর মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তদন্তে প্রমাণিত হয়, তিনি আসলে চীনের নাগরিক। ২০২৪ সালে একটি ভিয়েতনামি কর্মী পালিয়ে পুলিশকে খবর দিলে বিশাল ওই কমপ্লেক্সে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অফিস ভবন, বিলাসবহুল ভিলা ও সুইমিং পুলসহ বিস্তৃত এলাকায় ৭০০-র বেশি ফিলিপিনো, চীনা, ভিয়েতনামি, মালয়েশিয়ান, তাইওয়ানি, ইন্দোনেশিয়ান ও রোয়ান্ডার নাগরিককে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের হাতে পাওয়া নথিতে দেখা যায়, কমপ্লেক্সটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে গুয়োর নাম ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, আট আসামির সবাই মানব পাচার বা মানব পাচার সংগঠনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে অনলাইন প্রতারণা শিল্প দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে এই ধরনের প্রতারণায় প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, প্রকৃত ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে। ফিলিপিন্সে আগের প্রশাসনের আমলে অফশোর জুয়ার লাইসেন্স দেওয়া সহজ হওয়ায় এসব কেন্দ্র দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
গুয়োকে কেন্দ্র করে দেশে ব্যাপক জনরোষ ছড়ানোর পর ২০২4 সালে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস অফশোর জুয়া পরিচালনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং বিদেশি কর্মীদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেন। এই মামলার রায়কে মানব পাচারবিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
