
রাজ্যের একাধিক জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন পর্বকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি জেলায় জেলা শাসক ও জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা বুথ লেভেল অফিসারদের ব্যক্তিগত ওটিপি সংগ্রহে চাপ সৃষ্টি করছেন। পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমান থেকে এমন অভিযোগ উঠে আসায় প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তি বাড়ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী দফতরে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বিরোধী শিবির।
বিএলওদের দাবি, যে অ্যাপের মাধ্যমে তালিকা সংশোধনের কাজ হচ্ছে, সেখানে লগইনের জন্য ব্যবহৃত ওটিপি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। সেটি অন্য কোনও কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া নিয়মবিরুদ্ধ এবং ডেটার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশে অনেককে বাধ্য হয়ে সেই ওটিপি জমা দিতে হচ্ছে, ফলে কাজের পরিবেশে অযাচিত চাপ তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের মতে, এই ধরনের প্রক্রিয়া শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, ভোটার তথ্যের স্বচ্ছতা নষ্ট করার সম্ভাবনাও বাড়ায়।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে আলাদা চিঠিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে দায়ী করে গোটা ব্যবস্থাকে বিশৃঙ্খল বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, অপরিকল্পিত সময়সূচি ও অগোছালো বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মী থেকে সাধারণ নাগরিক সকলেই সমস্যায় পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান প্রক্রিয়ায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তাই অবিলম্বে কাজ স্থগিত করা উচিত।
অন্যদিকে, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী আধিকারিকের বক্তব্য, সংশোধনের কাজ ঠিকভাবেই এগোচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব। তবে বিরোধীদের চিঠি রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা পরীক্ষা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এখন নজর রাজ্যের নির্বাচন দফতরের দিকে। চাপে পড়া বিএলওদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।
