
অবৈধ কয়লা খনন, পরিবহন ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলায় শুক্রবার সকাল থেকে বেঙ্গল ও ঝাড়খণ্ডে একযোগে ৪২টি স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ১০০-এর বেশি আধিকারিক এ অভিযানে অংশ নেন, যারা কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য অবস্থান করেছিলেন। অভিযান সকাল ৬টায় শুরু হয় এবং এখনও চলছে।
বেঙ্গলে ২৪টি স্থান তল্লাশির আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে দার্গপুর, পুরুলিয়া, হাওড়া ও কলকাতার বাড়ি, অফিস ও কয়লা সংক্রান্ত কারখানা। ঝাড়খণ্ডে ১৮টি স্থান তল্লাশির আওতায় আসে, যেখানে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক উভয় প্রাঙ্গণ ছিল। জানা যায়, বেঙ্গলের এক স্থানের মালিক ছিলেন ভারত কোকিং কয়লিম লিমিটেডের (Bharat Coking Coal Limited) একটি কন্ট্রাক্টর।
তল্লাশিতে বড় পরিমাণ নগদ ও গহনার সন্ধান পাওয়া গেছে। বেঙ্গলে এক স্থানে প্রায় ৭০ লাখ টাকা উদ্ধার হয়, আরেক স্থানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বড় ও ছোট ডিবিতে সোনার ও রূপার গহনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তল্লাশিতে নগদ ১ কোটিরও বেশি পাওয়া গেছে।
বেঙ্গলের কয়লা ক্ষেত্রগুলি বিরভুম, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলায় বিস্তৃত। ২০২০ সালে Eastern Coalfieds Ltd-এর অভিযোগের পর থেকে অবৈধ খনন নিয়ে তদন্ত শুরু হয়, যা ২০২০–২১ সালে ৫৯৭টি মামলা ও ২৮ জনের গ্রেফতারিতে রূপ নেয়।
এখনো নিশ্চিত নয় যে, তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া সম্পদদের সঙ্গে অভিযুক্তদের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না। তবে নির্বাচন বছরের আগে এই অভিযান রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়াবে। এ ধরনের অভিযান কেন্দ্রের কয়লা খাতের নিয়মিত নজরদারিরই অংশ।
