
রাজ্যপাল হিসাবে তিন বছর পূর্তির দিনে রাজভবনে যে বৃহৎ গণবিবাহের আয়োজনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়েছে। ৮ নভেম্বর রাজভবনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ২৩ নভেম্বর বহু যুগলের গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হবে এবং আগ্রহী পাত্রপাত্রীদের জন্য আলাদা ইমেল আইডিও দেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার জারি করা নতুন বিবৃতিতে গণবিবাহের কোনও উল্লেখ নেই। সেখানে শুধুমাত্র জানানো হয়েছে, ওই দিন রাজভবনে একটি সীমিত পরিসরের অনুষ্ঠান হবে।
সূত্রের দাবি, গণবিবাহে প্রত্যাশিত সংখ্যায় আবেদন না মেলার কারণেই পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে। রাজভবনের তরফ থেকে এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও ভিতরকার মহলে আলোচনা, উদ্যোগটিকে কেন্দ্র করে প্রত্যাশিত উৎসাহ বা সাড়া না পাওয়ায় অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা ছাড়া উপায় ছিল না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের একটি বড় কারণ। বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত মন্তব্য থেকে শুরু করে এক সাংসদের অভিযোগ এসবকে ঘিরে রাজ্যপাল ও রাজনৈতিক মহলের দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজভবনে তল্লাশি, পাল্টা মানহানি মামলা পুরো পরিস্থিতিই যথেষ্ট উত্তপ্ত। এই অবস্থায় বড়সড় অনুষ্ঠান করলে অযাচিত সমালোচনা বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও ছিল প্রশাসনিক মহলে।
রাজভবন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যকার দূরত্বও সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের বিরোধ এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপানউতর এড়াতে রাজ্যপাল এ বছর নীরব এবং সংযত ভাবে বর্ষপূর্তি পালন করতে চাইছেন বলে দাবি করেছেন প্রশাসনের একাংশ।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘোষিত কর্মসূচি বাতিলের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত নতুন কোনও রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করে কি না, তা এখন নজর থাকবে।
