
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকা পরিশোধন সংক্রান্ত চিঠিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ-প্রতিআপত্তির এই পর্যায়ে রাজ্যের এক মন্ত্রীর তীব্র প্রতিক্রিয়া নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্র নির্দেশিকায় কিছু রাজনৈতিক দল বাধা দিচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পরই শুরু হয়েছে পাল্টা সমালোচনা। রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বল হওয়ায় একের পর এক হামলা ও অশান্তির ঘটনা ঘটছে এবং সেই দায় আড়াল করতেই বাংলা নিয়ে বেআইনি অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ পরিশোধন নিয়ে অসন্তোষ আরও ঘনীভূত হয়েছে। বহু ভোটগ্রহণ কর্মী বাড়তি চাপ ও ভয়ের মধ্যে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন জেলায় অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। মাত্র কয়েক মাসে ব্যাপক পরিমাণে কাজ শেষ করার নির্দেশে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বহু BLO ক্যাম্পে বসে কাজ করছেন, ফলে সাধারণ ভোটার প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ ধারণা পাচ্ছেন না। এতে নাম বাদ পড়ার আতঙ্ক বেড়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক স্তরে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। রাজ্যের দাবি, প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করে নির্বাচনী লড়াইকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষ পরিশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে জনমনে ভয় ও বিভ্রান্তির পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ উঠছে, তড়িঘড়ি পরিচালিত এই পুরো প্রক্রিয়ার আড়ালে রাজনৈতিক লাভের হিসেব লুকিয়ে রয়েছে।
লোকসভা ভোটের আগে অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা দুর্বলতা, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রতিটি ইস্যুই এখন বড় বিতর্কের মুখে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হবে বলেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা। উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে, কারণ যে প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ হওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেটাই এখন রাজনীতির কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে অস্থিরতার নতুন অধ্যায় রচনা করছে।
