
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী মার্জরি টেলর গ্রিন তার পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি তার শেষ কর্মদিবস হবে। এই পদত্যাগের পেছনে তার ট্রাম্পের সঙ্গে উদ্ভূত বিরোধ এবং Jeffrey Epstein কাণ্ডে ফসলনীয় বিতর্ক মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
গ্রিন তার পদত্যাগের সময়ে জানিয়েছিলেন যে, তিনি এমন নারীদের পক্ষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন যাদের ১৪ বছর বয়সে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং যারা সম্পদের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দ্বারা মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। তবে এই অবস্থান নেওয়ায় তিনি ট্রাম্পের সমালোচনার মুখোমুখি হন এবং Washington D.C.-তে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
টেলর গ্রিনের রাজনৈতিক জীবনে ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য ছিল অটুট। শুরু থেকেই তিনি ট্রাম্পের “Make America Great Again” নীতি সমর্থন করতেন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে তাদের মধ্যে তিক্ত মতপার্থক্য দেখা দেয়, যা তার পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মার্জরি টেলর গ্রিনের পদত্যাগ এমন সময় হচ্ছে যখন আরও কিছু মধ্যপন্থী রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন। গ্রিন তার পদত্যাগের মাধ্যমে কংগ্রেসে নৈতিক দায়িত্ব এবং নিজের নীতির প্রতি অটল থাকার প্রতীক দেখিয়েছেন।
তার এই পদত্যাগ মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক এবং আলোচনার বিষয় সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, কংগ্রেসে ট্রাম্প-সমর্থক এবং বিরোধীদের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা, নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে সমালোচনার প্রসঙ্গে এই ঘটনা গুরুত্ব বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রিনের পদত্যাগ রিপাবলিকান দলের ভেতরে অনুগত এবং মধ্যপন্থী শিবিরের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করবে।
মার্জরি টেলর গ্রিনের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নৈতিকতার গুরুত্বের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, এবং আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কৌশল এবং সহযোগিতার নতুন চিত্র তৈরি করবে।
