
হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেসে সহযাত্রীর সঙ্গে সাধারণ আলাপ থেকেই বদলে গেল রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসুর দিনের কর্মসূচি। কলকাতা থেকে জিয়াগঞ্জগামী ট্রেনে তাঁর পাশের আসনে বসেছিলেন জিয়াগঞ্জ সুরেন্দ্রনারায়ণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা চন্দ্রাণী হালদার। ট্রেনের আসন নিয়ে দু’জনের কথাবার্তার সূত্রপাত। সেই কথাতেই উঠে আসে শিক্ষিকার কর্মস্থলের পরিস্থিতি, স্কুলের প্রয়োজন এবং নানা সমস্যা। সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নেন, নির্ধারিত পরিকল্পনার আগেই তিনি ওই স্কুলে পৌঁছে যাবেন।
ট্রেন থেকেই সহকর্মীদের খবর দেন চন্দ্রাণী। অল্প সময়ে স্কুলচত্বর এবং ভবন সেজে ওঠে অতিথিকে অভ্যর্থনা জানাতে। জিয়াগঞ্জে পৌঁছে রাজ্যপাল স্কুলে প্রবেশ করেন এবং শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা গ্রহণ করেন। ছোট ছাত্রছাত্রীদের হাতে চকোলেট দেন, তাদের গলায় উত্তরীয় তুলে দেন। পরিদর্শনের শেষে স্কুলের উন্নয়নের জন্য রাজ্যপাল দশ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন। পাশাপাশি আরও দুই লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দেন। ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকশিক্ষিকাদের।
এর আগে রাজ্যপাল উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার সফর শেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুর্শিদাবাদে যাচ্ছিলেন। সীমান্তে পুশব্যাক সংক্রান্ত বিবরণ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েই তাঁর সীমান্ত পরিদর্শন। স্কুল থেকে বেরিয়ে তিনি যান স্থানীয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংহের স্টুডিয়োতে। পরে আটরশিয়া সীমান্ত চৌকিতে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও পুশব্যাক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা শোনেন। সফরের শেষে তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণ বিস্তারিত রিপোর্ট আকারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠাবেন বলে জানা গিয়েছে।
ট্রেনের সাধারণ আলাপচারিতা যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত বদলে দিতে পারে, জিয়াগঞ্জের এই ঘটনা তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ।
