
সংবিধান দিবসে বুধবার কলকাতায় বাবা সাহেব আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে দেশাত্মবোধক কিছু ধ্বনি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে যে দাবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের বিতর্ক দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধে আঘাত হানতে পারে এবং গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করে তুলতে পারে।
এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির প্রসঙ্গও এদিন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথিপত্রের চাপ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। বনগাঁ সীমান্ত সফরে স্থানীয়দের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বহু মানুষ নথি সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নাগরিক অধিকার সুরক্ষার নামে এই চাপ অপ্রয়োজনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএলও–দের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব, পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব এবং বিভিন্ন ফর্ম–সংক্রান্ত জটিলতার জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মীদের ওপর অযথা বোঝা চাপানো হচ্ছে, যা প্রশাসনিক ক্ষেত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, সংবিধান দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। গণতন্ত্র রক্ষাকে তিনি রাজ্যের প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পথ অনুসরণ করাই দেশের প্রকৃত দিশা এমন বার্তাও এদিন স্পষ্ট করেছেন তিনি। এদিনের বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
