
২৫ বছর পর দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি। গুয়াহাটি টেস্টে ৪০৮ রানে ভয়াবহ পরাজয়ের পর স্বভাবতই চাপে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। বুধবার বারসাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হারের সঙ্গে সঙ্গেই ভারত ০-২ ফলে সিরিজ হার নিশ্চিত করে। এরপরই গম্ভীরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে তাঁকে সরানোর দাবি।
গম্ভীর অবশ্য পদত্যাগের প্রসঙ্গ তোলেননি। বরং সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানান, দায়িত্বে থাকা বা না থাকা এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বিসিসিআই-এর। তাঁর কথায়, “আমি প্রথম দিন থেকেই বলেছিলাম, আমি গুরুত্বপূর্ণ নই। গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় ক্রিকেট। বোর্ড যদি মনে করে আমাকে সরাতে হবে, আমি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব।” কোচ হিসেবে নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না দিয়ে তিনি স্পষ্টই বোঝাতে চাইলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার বোর্ডের হাতেই।
চলতি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের অবস্থা আরও শোচনীয়। পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে নেমে গিয়েছে দল, যার ফলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ। এমন পরিস্থিতিতে দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কেন্দ্রে উঠে এসেছে গম্ভীরের কোচিং স্টাইল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। দেশের মাটিতে গত সাতটি টেস্টের মধ্যে পাঁচটিতে হার ভারতের মতো দলের কাছে যা নিতান্তই অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান। মোট ১৯টি টেস্টে গম্ভীরের অধীনে ১০টি হারের রেকর্ড আরও হতাশাজনক।
তবে সমালোচকদের কটাক্ষে পাত্তা দিতে নারাজ তিনি। পালটা জবাবে গম্ভীর স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ড সফরে তরুণদের নিয়ে পাওয়া সাফল্যের কথা। পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন তাঁর কোচিংয়ে ভারতের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ ও এশিয়া কাপ ২০২৫ জয়ের সাফল্য। তাঁর কথায়, “মানুষ খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যায়। এই দল এখনও অভিজ্ঞতায় খুব পিছিয়ে। ওদের আরও অনেক কিছু শেখার আছে। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে ওরা।”
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ভুল কোথায়? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দলে একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি, ব্যাটিং লাইন-আপের ভঙ্গুরতা এবং চাপের ম্যাচে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভুল এই তিনের সম্মিলিত কারণে এগোতে পারছে না টেস্ট দল। পিচ ও কন্ডিশনের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মেরুদণ্ডহীন পারফরম্যান্স মাঠে স্পষ্ট। অন্যদিকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাওয়া সাফল্য টেস্ট দলের ব্যর্থতা ঢাকতে পারছে না।
বিসিসিআই-র অন্দরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কোচ বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড। গম্ভীরকে কি আরও সময় দেওয়া হবে, নাকি দায়িত্ব অর্পণ করা হবে নতুন কারও উপর এখন সেটাই ক্রিকেট মহলের প্রধান আলোচ্য।
একটি বিষয় স্পষ্ট, টানা ব্যর্থতার এই ধাক্কায় ভারতীয় টেস্ট দল যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখানে কঠোর সিদ্ধান্তই হয়তো একমাত্র পথ। গৌতম গম্ভীর নিজে সরতে রাজি থাকুন বা না থাকুন, ভারতের টেস্ট ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড়াতে এখন প্রয়োজন পুরোদস্তুর রিবুট। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকিয়ে বিসিসিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
