
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ভারত সফরে আসছেন বলে ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণেই এই উচ্চস্তরের সফর হতে চলেছে। গত কয়েক মাসে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আবারও দৃঢ় হয়েছে, বিশেষ করে ওয়াশিংটন যখন নয়া দিল্লির রাশিয়ান তেল আমদানির ওপর বাড়তি শুল্ক চাপায়, তখন দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
পুতিনের সফর ঘোষিত হয়েছিল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মস্কো সফরের সময়, গত আগস্টে। তবে সেসময় নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। পরে চীনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও পুতিন একান্ত বৈঠক করেন। পুতিনের লিমুজিনে বসেই প্রায় এক ঘণ্টার আলোচনা হয় দুই নেতার মধ্যে। সেই বৈঠকেই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার রূপরেখা তৈরি হয় বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
আগামী সফরে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং বাণিজ্য–এই তিন বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়লেও, ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই মস্কোর সঙ্গে কেনাবেচা বজায় রেখেছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক অস্ত্র সরবরাহ থেকে শুরু করে যৌথ উৎপাদন, সব ক্ষেত্রেই রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান অংশীদার।
পুতিনের সফরের সম্ভাব্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে রাশিয়ার টানাপোড়েন এখনও তীব্র। সেই অবস্থায় ভারত যে কিনা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে রাশিয়া ও পশ্চিম, দুই পক্ষের সঙ্গেই কূটনৈতিক ভারসাম্য ধরে রেখেছে তার সঙ্গে পুতিনের প্রত্যক্ষ আলোচনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিশা নির্ধারণের পথও সুগম হবে।
