
পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোনও পরিষ্কার তথ্য না থাকায় জল্পনা তুঙ্গে। পরিবার, আইনজীবী ও দলের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকার বারবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেই দাবি করছে।
২০২৩ সালের আগস্টে দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডের পর থেকে ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে আছেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে তাঁকে নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে কারও মতে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার কথা বলে অন্যত্র সরানো হয়েছে, কেউ বলছে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা আড়াল করা হচ্ছে। এই সমস্ত গুজবের প্রেক্ষিতেই ‘ইমরান খান কোথায়’ হ্যাশট্যাগ পাকিস্তানে ট্রেন্ড করতে শুরু করে।
দলের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে, ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হোক। দলীয় প্রতিনিধি দল একাধিকবার কারাগারে গিয়েও ফিরে এসেছে প্রবেশাধিকার না পেয়ে। পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরাও আদিয়ালা জেলের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়ে প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানের কোনও খোঁজ নেই, যা স্বাভাবিক নয়।
পাকিস্তান সরকারের উপদেষ্টারা অবশ্য পরিস্থিতির গুরুত্ব অস্বীকার করে জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তাঁর দেখভালের জন্য নিয়মিত মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। নিরাপত্তার কারণে কোনও স্থানান্তরের কথাও সরকার অস্বীকার করেছে। তবে সরকারের এই বক্তব্যে দলের সন্দেহ দূর হয়নি। তাঁদের দাবি, সরাসরি সাক্ষাৎ ছাড়া ইমরানের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রসংঘও পাকিস্তান প্রশাসনের কাছে ইমরানের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। ফলে দেশের ভেতরে যেমন পারদ চড়ছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে ইমরান খানের অবস্থান ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবিই এখন সর্বত্র জোরদার হচ্ছে।
