
SIR প্রকল্পে কাজের গতি বাড়াতে তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয়েছে কড়া তদারকি। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতা–মন্ত্রীদের ভার্চুয়াল বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন “কাজ করতে না পারলে পদে থেকে চেয়ার গরম করার প্রয়োজন নেই।” এনুমারেশন ফর্ম ১০০% জমা নিশ্চিত করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য, আর এই কাজে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করতে নারাজ নেতৃত্ব।
দলের শীর্ষ পর্যায় সূত্রে জানা গিয়েছে, SIR প্রকল্পে কে কতটা দায়িত্ব পালন করছেন, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে বুথভিত্তিক মূল্যায়ন। জেলার একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার কাছ থেকে ইতিমধ্যেই তথ্য চাওয়া হয়েছে। কোন এলাকায় ফর্ম জমা পড়ছে, কোথায় পিছিয়ে সবকিছু নিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্তারিত রিপোর্ট।
এই রিপোর্টই আগামী ৬ ডিসেম্বর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোনা যাচ্ছে, এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ঠিক হবে বহু নেতার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান। যারা ভাল কাজ করবেন, তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে। আর যারা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে শাস্তির খাঁড়া।
দলের ভিতরে অনেকেই মনে করছেন, ১০০% এনুমারেশন ফর্ম জমার ওপর জোর শুধুই প্রশাসনিক নয়, এতে আছে রাজনৈতিক কৌশলও। কারণ কোনও নাগরিক ফর্ম জমা না দিলে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই ফর্ম ফিল-আপ থেকে শুরু করে হিয়ারিং পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাহায্য দিতে মাঠে নামছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। এতে যেমন জনসংযোগ বাড়ছে, তেমনই সংগঠনের ভিতও আরও মজবুত হচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
SIR–কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কয়েকটি জেলায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। নেতাদের কাজের গতি, নির্দেশ পালনে শিথিলতা সবই আসছে নজরে। তাই এবারের রিপোর্ট যে বেশ কড়া হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। দলের ভেতরে শুরু হয়েছে চাপা উৎকণ্ঠা ফর্ম না জমলে কি সত্যিই হবে শাস্তি?
তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সাফ বার্তা, “দলের স্বার্থে কাজ করতেই হবে। নয়তো ফল ভুগতে হবে।”
