
হাওড়ার বালির নিশ্চিন্দা এলাকায় পঞ্চায়েত প্রধানকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাঁপুইপাড়া–বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ও তাঁর সঙ্গী অনুপম রানা একটি অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। বুড়ো শিবতলার কাছে তাঁদের বাইক থামিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় দু’জন দুষ্কৃতি। মোটরবাইকে করে এসে অত্যন্ত কাছ থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুরুতর আহত হন দেবব্রত ও অনুপম দু’জনেই। দেবব্রতের কোমর ও কাঁধে আঘাত লাগে, অনুপম বাধা দিতে গেলে তাকেও লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা দু’জনকে উদ্ধার করে প্রথমে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও পরে দেবব্রতকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন হাওড়া জেলা সদর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ও উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ এবং জেলার যুব সভাপতি কৈলাশ মিশ্রও। কৈলাশ মিশ্র বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও পুলিশ এখনও কোনও রাজনৈতিক কোণ নিশ্চিত করেনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তে নেমেছে বিশাল পুলিশবাহিনী। হাওড়া পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বাসু নামে এক সমাজবিরোধীর নাম উঠে এসেছে। প্রধানের অনুগামীদের দাবি, বাসু প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ হলেও পরে বিবাদ বাধে। আপডেট তথ্য অনুযায়ী, সিন্ডিকেট ও ইমারতি ব্যবসা নিয়েই বিরোধ চরমে ওঠে। দেবব্রত মণ্ডল এলাকায় ইমারতির ব্যবসা করতেন। স্থানীয় বিজেপির অভিযোগ, তিনি এলাকায় একচেটিয়া ব্যবসা চালাতেন এবং অন্য কাউকে সুযোগ দিতেন না। বাসু চৌধুরী নিজে ব্যবসায় নামতে চাইলে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে, এবং সেই বিবাদকেই এই হামলার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
