
হংকংয়ের তাই পো অঞ্চলের ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ১২০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যুের পর শহর জুড়ে শোকের সঙ্গে ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়েছে। আপাত দুর্ঘটনার পেছনে নির্মাণ ত্রুটি, নজরদারির ঘাটতি ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে জবাবদিহির দাবি উঠলেও চীনা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে সেই সব আওয়াজ দ্রুত দমন হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও রাস্তাঘাটে মানুষ তদন্ত দাবি করতে শুরু করলে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবাসন অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায় নির্ধারণ, নির্মাণ তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে পোস্টার বিলি করছিলেন কয়েকজন যুবক। এই প্রচার দ্রুতই অনলাইন পিটিশনে রূপ নেয় এবং অল্প সময়েই দশ হাজারের বেশি সাড়া পাওয়া যায়।
কিন্তু পরদিনই পিটিশনের লেখা সরিয়ে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে আটক করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জনরোষ বাড়ানোর কোনও প্রচেষ্টা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।
হংকংয়ের রাজনৈতিক আবহ একসময় ছিল অত্যন্ত সক্রিয়, কিন্তু ২০২০ সালে বেইজিংয়ের আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের পর থেকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর নাগরিকদের একটি বড় অংশ বিশেষজ্ঞ-নির্ভর স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করলেও সরকার এখন পর্যন্ত শুধু একটি আন্ত-বিভাগীয় টাস্ক ফোর্স ঘোষণা করেছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের স্থানে শোকপ্রকাশ অব্যাহত। অসংখ্য মানুষ ফুল, মোমবাতি ও হাতে লেখা বার্তা রেখে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই দুর্ঘটনা অবহেলা ও অদক্ষতার পরিণতি। একই সঙ্গে সামনে আইনসভার নির্বাচন থাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আগের নির্বাচনে রেকর্ড কম ভোট পড়েছিল, তাই প্রশাসন এবার কোনও প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে বাড়তে দিতে চাইছে না।
এই ভয়াবহ আগুনকে কেন্দ্র করে যেমন শোক বাড়ছে, তেমনই প্রশ্নও বাড়ছে কিন্তু উত্তর মিলছে না কোনও দিকে।
