
ফিলিপিন্স জুড়ে রবিবার ব্যাপক দুর্নীতি বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাপ ছড়ায়। রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি কেলেঙ্কারির দ্রুত তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি তোলে। দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে করা জনরোষ এবার বৃহত্তর আকারে বিস্ফোরিত হয়েছে।
সম্প্রতি ত্রুটিপূর্ণ বা অস্তিত্বহীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিশাল দুর্নীতির জাল সামনে এসেছে। এই প্রকল্পগুলোর নামে সরকারি তহবিল লুট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই রাষ্ট্রপতি ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র প্রশাসনের ওপর বিরাট চাপ তৈরি হয়েছে। জনগণের প্রশ্ন কারা এই প্রকল্পগুলোর পেছনে থেকে অর্থ আত্মসাৎ করল এবং কেন এতদিন তা ধরা পড়ল না।
ম্যানিলায় একাধিক সংগঠনের আলাদা আলাদা মিছিল যোগে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে। রোমান ক্যাথলিক চার্চের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরাও রাস্তায় নেমে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করতে পুলিশের ১৭,০০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয় এবং প্রধান রাস্তাগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দু’দু’জন প্রেসিডেন্টের পতন হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগের জেরে। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলন নতুন আতঙ্ক তৈরি করছে। যদিও দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা কোনও অগণতান্ত্রিক পথে সমর্থন দেবে না এবং গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি অটুট থাকবে।
এদিকে তদন্তে ইতিমধ্যেই কয়েকজন সরকারি প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কোটি কোটি পেসো মূল্যের সম্পত্তি জব্দ হয়েছে। সরকারের দাবি, দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু আন্দোলনকারীরাবলছেন, শুধুমাত্র নিচু স্তরের কর্মীদের ধরে লাভ নেই; বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ও ব্যবসায়ীরা জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
ফিলিপিন্সের সাধারণ মানুষের মতে, এই আন্দোলন শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে নয়, দেশকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার লড়াই।
