
জাতিসংঘের কমিটি অ্যাগেইনস্ট টর্চার ইসরায়েলসহ আরও তিনটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে বিশেষভাবে ইসরায়েল ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর ২০২৩ এর হামাস হামলার পর ইসরায়েল যে সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের উদাহরণ এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে এসেছে গাজার সাধারণ মানুষের ওপর।
কমিটির দাবি, ইসরায়েলের বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের নীতিগত অবস্থান বিবেচনায় এটি যেন পরিকল্পিত গণশাস্তির রূপ নিয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ওপর গোটা সময়জুড়ে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে তা সংগঠিত ও বিস্তৃত নির্যাতনের মতো এবং পরিস্থিতি অক্টোবরের পর আরও ভয়াবহ হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের উপস্থিতিকে কমিটি অবৈধ বলেছে এবং জানিয়েছে যে বিভিন্ন প্রশাসনিক নীতি বাস্তবায়িত হলে তা ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য অমানবিক জীবনযাপনের পরিস্থিতি তৈরি করছে। কমিটি ইসরায়েলকে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে যাতে সংঘাত চলাকালীন সব ধরনের নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা যায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাত্ক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণকর্মীদের গাজায় প্রবেশ নিশ্চিত করারও অনুরোধ জানিয়েছে।
ইসরায়েলের আইন নিয়ে কমিটির উদ্বেগ আরও বেড়েছে কারণ এখনো সেখানে নির্যাতনকে আলাদা অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদের সময় শারীরিক চাপে জনসাধারণের কিছু কর্মকর্তাকে অপরাধমূলক দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধানও রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, জেরা করার ক্ষেত্রে বিশেষ গোপন পদ্ধতি ব্যবহার করার অনুমতি এখনো কার্যকর রয়েছে।
কমিটির আগের সুপারিশগুলোর কোনোটি বাস্তবায়ন হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল যে দখলকৃত এলাকায় মানবাধিকার সম্পর্কিত আইনি কাঠামো প্রযোজ্য তা স্বীকার করেছে, সেটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে কমিটি মনে করে, নীতি ও প্রয়োগ উভয় দিকেই ইসরায়েলকে দ্রুত ও স্বচ্ছ সংস্কার গ্রহণ করতে হবে যাতে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ কঠোরভাবে রোধ করা যায়।
