
অক্টোবর ২০২৫-এ ভারতের প্রাইভেট ইকুইটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (পিই/ভিসি) বাজারে বড়সড় উত্থান দেখা গেছে। ওই মাসে মোট ৫.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে ১০২টি চুক্তির মাধ্যমে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। যদিও চুক্তির সংখ্যা কিছুটা কমেছে, মূল প্রবাহ বেড়েছে বড় মাপের ডিলের কারণে।
এই সময়ে খাঁটি পিই/ভিসি বিনিয়োগ ১৩ মাসের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছে ৫ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। বিপরীতে রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ প্রায় ৮৬ শতাংশ কমেছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি গতি এসেছে পাবলিক মার্কেটে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট বিভাগে, যেখানে প্রায় দশগুণ লাফ দিয়ে ২.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়। স্টার্টআপ খাতেও উল্লম্ফন দেখা যায় এবং বছরে ১৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তা পৌঁছায় ২ বিলিয়ন ডলারে।
গ্রোথ বিনিয়োগ কমে দাঁড়িয়েছে ৮১০ মিলিয়ন ডলারে এবং বাইআউট লেনদেন প্রায় স্থির থেকেছে ২২৭ মিলিয়ন ডলারে। ক্রেডিট বিনিয়োগে বড় ধস নেমেছে ৯০ শতাংশ কমে ১৮৯ মিলিয়ন ডলার।
অক্টোবরে মোট নয়টি বড় চুক্তি হয়েছে, যার মূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। এগুলো পুরো প্রবাহের প্রায় ৭০ শতাংশ। মাসের সবচেয়ে বড় লেনদেন ছিল আন্তর্জাতিক হোল্ডিং কোম্পানির সম্মান ক্যাপিটালে ৪৩ শতাংশের বেশি অংশীদারি কিনতে ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়।
খাতভিত্তিক হিসাবে আর্থিক পরিষেবা সবচেয়ে এগিয়ে মোট ২.৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। এরপর ই-কমার্সে ৭১৫ মিলিয়ন এবং প্রযুক্তি খাতে ৪৫৫ মিলিয়ন ডলার। তিনটি মিলিয়ে মাসের মোট পিই/ভিসি প্রবাহের ৭৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, এক্সিট কার্যক্রমে বড় পতন হয়েছে। অক্টোবর ২০২৫-এ ১৪টি ডিল মিলিয়ে এক্সিটের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪০ মিলিয়ন ডলারে, যা গত বছর থেকে প্রায় অর্ধেক। সেপ্টেম্বরের তুলনায় তো অনেক কম তখন তা ছিল ২.৬ বিলিয়ন ডলার। মাসের সবচেয়ে বড় এক্সিট ছিল আদিত্য বিড়লা ক্যাপিটালে ২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি থেকে ১৮৬ মিলিয়ন ডলার আদায়।
তবে তহবিল সংগ্রহে বাজার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। অক্টোবর মাসে ১.৮ বিলিয়ন ডলার তোলা হয়, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এখানে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ছিল এইচএসবিসির ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল, যা বিভিন্ন পর্যায়ের স্টার্টআপকে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সহায়তা দিতে গঠিত।
