
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এসআইআর ঘিরে বিতর্ক আরও চড়তে থাকায় হঠাৎই এলাকায় উপস্থিত হলেন নির্বাচন কমিশনের স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত। রবিবার তিনি সোজা পৌঁছে যান ফলতা বিডিও অফিসে এবং মৃত ভোটার সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি বিরোধী দলগুলি তুলেছিল, সেগুলি খতিয়ে দেখেন বিস্তারিত ভাবে।
বিডিও শানু বক্সীর বক্তব্য, বিরোধীদের তরফে বেশ কয়েকটি এপিক নম্বর তুলে ধরে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল মৃতদের নাম নাকি এখনও তালিকায় জীবিত দেখানো হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের দাবি, পোর্টালে খোঁজ করে দেখা গিয়েছে সংশ্লিষ্ট সব নামেই ‘ডেথ মার্কিং’ ঠিকভাবেই করা রয়েছে। অর্থাৎ, অন্তত এই তালিকায় ভুল দেখার অভিযোগ সঠিক নয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন BLO, ERO, SDO-সহ চার দলের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সুব্রত গুপ্ত জানান, সবাই নিজেদের মতামত জানিয়েছেন, তেমন কোনও বড় সমস্যার কথা কারও তরফে শোনা যায়নি। অভিযোগ এলেই তা যাচাই হবে, প্রয়োজনে ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন ও শুনানিও চলবে। BLO-রা অবশ্য সিস্টেম ও সার্ভার সংক্রান্ত কিছু প্রযুক্তিগত অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। পর্যবেক্ষক তা নথিবদ্ধ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশও দেন।
ইতিমধ্যেই কমিশনে বহু অভিযোগ জমা পড়েছিল বলে সূত্রের দাবি। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অভিযোগ আসা স্বাভাবিক, কিন্তু মূল দায়িত্ব সত্যতা যাচাই করা। এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, SIR প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক গতিতে চালানো হচ্ছে। যে কাজ সাধারণত আড়াই বছর ধরে হয়, সেটাই নাকি এক মাসে সেরে ফেলতে চাইছে কমিশন।
এই পরিস্থিতিতে শেষমেশ এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন ৪ ডিসেম্বরের বদলে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে একইসঙ্গে সংশোধন প্রক্রিয়া চলবে বলে নতুন ক্যালেন্ডারে জানানো হয়েছে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ পাবে খসড়া ভোটার তালিকা, আর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, বিতর্কের মাঝেই এগোচ্ছে পুরো SIR প্রক্রিয়া, নজরদারি আরও কঠোর করে।
