
পশ্চিমবঙ্গে চলতি SIR (Special Summary Revision) প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠকেই তিনি ইঙ্গিতে অভিযোগ করেন, দিল্লি থেকে পাঠানো একজন “এক্স অফিসার” প্রশাসনিক আধিকারিকদের রাতে ফোন করে চাপ সৃষ্টি করছেন, বদলির ভয় দেখাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভয় পাবেন না, আমি আছি। আপনারা নিজের কাজ করুন।”
এবার সেই মন্তব্যের জবাব দিলেন স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত। একসময়ের শীর্ষ আইএএস আধিকারিক স্পষ্ট ভাষায় জানান, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তিনি কোনও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া দেবেন না। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন “কোভিড বা ভোটের কাজে নির্দিষ্ট সময় বলে কিছু হয় কি?” কমিশন সূত্রের মতে, সুব্রতবাবুর এই মন্তব্যে বোঝাই যাচ্ছে, প্রয়োজনে তিনি যে কোনও সময় প্রশাসনকে ফোন করে তথ্য চাইতেই পারেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করে সুব্রত গুপ্তকে বাংলায় স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার করে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি আরও ১২ জন সিনিয়র আইএএস আধিকারিককে বিভিন্ন জেলার ইলেকটোরাল রোল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা সফর করেছেন সুব্রতবাবু। কমিশন দফতরে দু’দিনের টানা বৈঠকের পর বুধবার তিনি যাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানে। সেখানে BLO, ERO, DEO ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর তরফে BLO–দের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরেও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে সুব্রতবাবু জানান, বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকেও অংশ নেন তিনি।
এখন প্রশ্ন SIR–কে কেন্দ্র করে রাজ্য–কেন্দ্র দ্বন্দ্বের মাঝেই কি প্রশাসনিক চাপ, রাজনৈতিক পাল্টা দাবি ও কমিশনের কড়া নজর সব মিলিয়ে আরও উত্তেজনা বাড়বে? পর্যবেক্ষক মহলের মতে, পরবর্তী কয়েকদিনই ঠিক করবে নির্বাচনী তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।
