
কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ কার্যত থমকে আছে এ বার তার দায় স্পষ্টভাবে রাজ্য সরকারের উপর চাপাল কেন্দ্র। লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানালেন, কলকাতা এবং শহরতলিতে চলমান মোট ৫২ কিলোমিটার মেট্রো করিডরের মধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটারে কাজ সম্পূর্ণ স্থবির। তার প্রধান কারণ, জমি অধিগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন (এনওসি) দিতে রাজ্যের অনীহা।
রেলমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, পার্পল লাইন জোকা–এসপ্ল্যানেড এ এখনও খিদিরপুর স্টেশনের নির্মাণে জমি-সংক্রান্ত জট কাটেনি। ধর্মতলায় বিসি রায় মার্কেটের ৫২৮টি দোকান স্থানান্তরের প্রয়োজন থাকলেও, বিকল্প দোকানের ব্যবস্থা হয়ে গেলেও রাজ্য সরকার অনুমোদন দেয়নি বলে অভিযোগ। ফলে এসপ্ল্যানেডে স্টেশন নির্মাণ শুরুই করা যায়নি।
অরেঞ্জ লাইনে নিউ গড়িয়া–বিমানবন্দর চিংড়িঘাটা মোড়ে তিন দিন রাতের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখার অনুমতি চাইছে মেট্রো, যাতে কাজ এগোয়। কিন্তু সেখানেও এনওসি মেলেনি বলে দাবি কেন্দ্রের।
ইয়েলো লাইনে নোয়াপাড়া–বারাসত পরিস্থিতি আরও জটিল। নিউ ব্যারাকপুর–বারাসত অংশে ১,২৭৭টি ঝুপড়ি এবং ৭৬৪টি দোকান সরানো হয়নি। প্রায় ২৩ হাজার বর্গমিটার জমি অধিগ্রহণ বাকি। রেলমন্ত্রীর অভিযোগ রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কোনও অগ্রগতি দেখাচ্ছে না। বরাহনগর–ব্যারাকপুর প্রসারে ‘মৌ’ স্বাক্ষর সত্ত্বেও রাজ্য চুক্তি অনুযায়ী সহযোগিতা করেনি বলেও দাবি তাঁর। মেট্রো সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মোট জমির প্রায় ৭৩ শতাংশ অধিগ্রহণ এখনও অসম্পূর্ণ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি তিনটি সম্প্রসারিত রুট উদ্বোধন করলেও সেখানে যাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি স্মৃতিচারণায় রেলমন্ত্রী হিসেবে প্রকল্প শুরুর কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু এ বার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সাফ জানালেন মেট্রো সম্প্রসারণ আটকে থাকার মূল দায় রাজ্য সরকারেরই।
