
তৃণমূলের ভরতপুর বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে অবশেষে দল থেকে সাসপেন্ড করা হল। বহুদিন ধরেই তাঁর লাগামহীন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ছিল দলীয় নেতৃত্ব। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানালেন, “ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করে, তাদের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক থাকবে না।” সেই সাফ বার্তাই কার্যত হুমায়ুনের বিরুদ্ধেই নিল শাসক দল।
দলের তরফে আগেও তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। একবার নয়, টানা তিনবার সতর্কতা সত্ত্বেও তিনি বারবার দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। বিশেষত বাবরি মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েই ক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছিল তৃণমূলের মধ্যে। প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা বলেছিলেন হুমায়ুন, যা দলীয় অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত।
মুর্শিদাবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যখন হুমায়ুন উপস্থিত ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই সাসপেনশন ঘোষণা করে ফেলেন ফিরহাদ হাকিম। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে শাসক দলের তরফে। তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তাঁকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত জানায়।
দলীয় মহলে মত, দীর্ঘদিন ধরেই হুমায়ুনের বক্তব্য দলকে অস্বস্তিতে ফেলছিল। বারবার বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তৃণমূলের ইমেজেও প্রভাব পড়ছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। যদিও হুমায়ুনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহল জোর গুঞ্জনে সরগরম, এই সাসপেনশন কি হুমায়ুনের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘোরাবে, নাকি তিনি অন্য কোনও শিবিরের দিকে ঝুঁকবেন? আপাতত এই সিদ্ধান্তে তৃণমূল স্পষ্ট করে দিল ধর্মীয় মেরুকরণমূলক মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না, দলীয় শৃঙ্খলাই সর্বাগ্রে।
