
কলকাতার গিরিশপার্কে বৃহস্পতিবার সকালেই মিলল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মেট্রো স্টেশনের তিন নম্বর গেটের ঠিক পাশের একটি বহুদিনের পরিত্যক্ত পৈতৃক বাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম সৌম্যদিত্য কুণ্ডু, বয়স মাত্র একুশ। পেশায় পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রশিক্ষণ চলছিল তাঁর পরিবারেই সেই খবর নিশ্চিত করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সৌম্যদিত্য। নিয়মিতই ওই পুরনো বাড়িতে আসতেন। কিন্তু সেদিন বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি। ফোনেও আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। দীর্ঘসময় পেরিয়ে যেতেই উদ্বেগ বাড়ে পরিবারের। একমাত্র বন্ধুকেও ডেকে খোঁজ চালানো হয়। লোকেশন ট্র্যাক করতে গিয়েই পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, তিনি গিরিশপার্কের ওই বাড়িতেই আছেন। দরজা ভাঙতেই দেখা যায় ঝুলন্ত দেহ।
ঘর তল্লাশি করতে গিয়ে মেলে একটি ট্যাব, যার পিছনে বড় করে লেখা ‘LOST’। এই শব্দ ঘিরেই নতুন করে রহস্য দানা বাঁধছে। মানসিক অবসাদ? কোনও ব্যক্তিগত টানাপোড়েন? নাকি কোনও বড় কারণ? পরিবারের দাবি, কোনও অস্বাভাবিকতা তাঁরা লক্ষ করেননি। বাবা জানান, “কোনও সমস্যার কথা আমাদের বলেনি। হঠাৎ এভাবে চলে যাবে, ভাবতেই পারছি না।” মায়ের কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য আরও হৃদয়বিদারক করে তোলে পরিস্থিতিকে।
প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার দিকেই ঝুঁকছে তদন্ত। তবে খুনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। বাড়িটির নির্জনতা, দেহের অবস্থান এবং ট্যাবের ‘LOST’ বার্তা সব মিলিয়ে প্রশ্নের সংখ্যা বাড়ছেই। কেন লিখেছিলেন এই শব্দ? কার উদ্দেশে? নাকি কোনও ইঙ্গিত?
এদিন মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে মিলতে পারে আরও স্পষ্ট চিত্র। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রশিক্ষণ সংস্থার সঙ্গে কথা বলেও তথ্য জোগাড় করছে পুলিশ। হঠাৎ করে এক তরুণ পাইলটের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়।
