
শীতকাল এলেই চুলের নানা সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ঠান্ডা হাওয়া, কম আর্দ্রতা আর স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত কমে যাওয়ায় চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন। খুশকির সমস্যা বাড়ে, চুল ভাঙা ও পড়ার হারও বেড়ে যায়। ফলে শ্যাম্পু করা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকে, বেশি করলেও সমস্যা, আবার কম করলে মাথা নোংরা হয়ে যায়। তাই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শীতের সময় শ্যাম্পুর সঠিক রুটিনই পারে চুলকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে।
গরমকালে অনেকে সপ্তাহে তিন থেকে চার বার শ্যাম্পু করেন। কিন্তু শীতের ক্ষেত্রে এই নিয়ম একদম মানানসই নয়। কারণ এই সময় স্ক্যাল্পের তেল দ্রুত শুকিয়ে যায়। খুব ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে সেই তেল আরও কমে গিয়ে স্ক্যাল্প আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এর ফলেই খুশকি, চুলকানি এবং রুক্ষতার সমস্যা বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে সাধারণত ৩-৪ দিনে একবার, অর্থাৎ সপ্তাহে দু’বার শ্যাম্পু করলেই যথেষ্ট। এতে চুল পরিষ্কারও থাকবে, আবার তেলের স্বাভাবিক ভারসাম্যও নষ্ট হবে না।
তবে স্ক্যাল্পের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পুর ব্যবধান বদলে যেতে পারে। যাদের স্ক্যাল্প খুব শুষ্ক, তারা প্রয়োজনে সপ্তাহে একবারও শ্যাম্পু করতে পারেন। অন্যদিকে, যাদের স্ক্যাল্প অয়েলি, তারা ২–৩ দিন অন্তর শ্যাম্পু করলেই ভাল ফল পাবেন। কিন্তু শীতের যত্নের মূল মন্ত্র কম শ্যাম্পু, বেশি ময়েশ্চার।
শুধু শ্যাম্পু করলেই হবে না; তার সঙ্গে সঠিক হেয়ারকেয়ারও জরুরি। প্রতিবার শ্যাম্পুর পরে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন হেয়ার মাস্ক বা ডিপ কন্ডিশনিং করলে চুলের রুক্ষভাব অনেকটা কমে। শ্যাম্পুর আগের দিন হালকা গরম তেল দিয়ে স্ক্যাল্পে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, স্ক্যাল্প নরম থাকে এবং শুষ্কতা কমে।
শ্যাম্পু বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। হার্শ সালফেট, প্যারাবেন, অ্যালকোহলযুক্ত শ্যাম্পু শীতে আরও ক্ষতি করে। এগুলোর বদলে মাইল্ড, ময়েশ্চারাইজিং, সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু বেছে নেওয়াই ভাল। শ্যাম্পু করার সময় গরম জল ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ গরম জল স্ক্যাল্পের তেল দ্রুত নষ্ট করে দেয়। বরং হালকা গরম বা নর্মাল জলে মাথা ধোয়া চাই।
শীতকালে চুলের যত্ন বলতে বোঝায় অতিরিক্ত শ্যাম্পু নয়, বরং ময়েশ্চার ধরে রাখা। সঠিক ব্যবধানে শ্যাম্পু, সঙ্গে নিয়মিত কন্ডিশনার, তেল ও মাস্ক ব্যবহার করলে শীতেও চুল থাকবে নরম, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর।
