
রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে আরও গতিময় করতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কলকাতা সহ মোট ২৩ জেলায় ২৩ জন আমলাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় একজন করে সচিবকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার জন্য।
এসআইআর–এর আবহে সম্প্রতি মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে জেলা শাসকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, এসআইআর নিয়ে কোনও অযথা চাপ বা ভয় দেখানো চলবে না। উন্নয়নের কাজে যাতে কোনও বাধা না আসে, তা নিশ্চিত করতেই এই নতুন নজরদারি ব্যবস্থা।
মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর সরকারের ১৪ বছরের বেশি সময়ের প্রশাসনিক কাজের মধ্যে বর্তমানে মোট ৯৫টি সরকারি প্রকল্প সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ‘বাংলা আবাস যোজনা’, ‘পথশ্রী’, ‘রূপশ্রী’, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ এই প্রকল্পগুলির কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। ঠিকঠাক ভাবে কাজ হচ্ছে কি না, মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছচ্ছে কি না এই সবই দেখবেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আমলারা।
নবান্নের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এ নিয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় প্রকল্পভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট ভাবে বন্টন করা হয়েছে সচিবদের মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আগামী নির্বাচনের আগে সরকারি প্রকল্পগুলিকে আরও শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করাতেই এই পদক্ষেপ। মানুষের কাছে সরকারের কাজ দৃশ্যমান করতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো জরুরি ছিল বলেও মত অনেকের।
অন্যদিকে, বিরোধী বিজেপি এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, “অগ্রগতি নয়, ভোটার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ঢাকতেই এই সব করা হচ্ছে।”
তবে সব মিলিয়ে পরিষ্কার, উন্নয়ন প্রকল্পের মান এবং গতিবেগ বাড়াতে নবান্ন এবার ময়দানে নামাল বিশেষ টাস্কফোর্সের মতোই ২৩ জন অভিজ্ঞ আমলাকে।
