
দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর পরপর তিন দিনের অস্থিরতায় কলকাতা বিমানবন্দর কার্যত বিপর্যস্ত। ৩ ডিসেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর, এই সময়ের মধ্যে শুধু কলকাতা থেকেই বাতিল হয়েছে ৯২টি ফ্লাইট এবং দেরি করেছে আরও ৩২০টি। সরকারি নথি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যেই স্পষ্ট, তিন দিনে মোট নির্ধারিত ৪৬৮টি উড়ানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট সময়মতো ওঠানামা করতে পারেনি। এর ফলে যাত্রীদের স্বাভাবিক যাত্রাপথ একেবারে এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রের দাবি, ইন্ডিগোর কর্মী সংকট, অতিরিক্ত অপারেশনাল চাপ এবং শিডিউল ব্যবস্থাপনায় গলদ, এই তিন কারণে টানা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। বোর্ডিং কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন, নিরাপত্তা চৌকিতে ভিড় এবং গেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা, সব মিলিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরণ তুলেছে।
শুক্রবার সকালে আরও তীব্র সিদ্ধান্ত নেয় ইন্ডিগো, দিল্লি বিমানবন্দর থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সমস্ত ফ্লাইট বাতিল। সাধারণত দিল্লি থেকে প্রতিদিন ২৩৫টি আউটবাউন্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে সংস্থাটি। এতগুলো উড়ান একসঙ্গে বাতিল হওয়ায় রাজধানীর বিমানবন্দরে কার্যত অচলাবস্থা তৈরির পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
শুধু দিল্লি নয়, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, দেশের প্রায় সব বড় বিমানবন্দরেই প্রভাব স্পষ্ট। শুক্রবার সারা দেশে বাতিল হয়েছে ৬০০–রও বেশি ফ্লাইট, আগের দিনও ৫৫০টির মতো উড়ান বাতিল হয়েছিল। ট্রাভেল প্ল্যান ভেস্তে গিয়েছে হাজার হাজার যাত্রীর।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইন্ডিগোর মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের খবর। তবে কখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তার কোনও স্পষ্টতা নেই। টানা তিন দিনের এই ভোগান্তি নাগরিকদের প্রশ্ন তুলেছে, দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থার এই ‘অপারেশনাল বিপর্যয়’ সামলাতে দায়িত্ব কোথায়?
যাত্রীদের আশা, দ্রুতই ফিরবে স্বাভাবিক পরিষেবা, কারণ দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে জরুরি যাত্রা, সব ক্ষেত্রেই এই অস্থিরতা বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
