
দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর পরিষেবা টানা তৃতীয় দিনেও বিপর্যস্ত। শুক্রবার দিল্লি বিমানবন্দর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ইন্ডিগোর কোনও ফ্লাইট উড়বে না, এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, চেন্নাই বিমানবন্দর থেকেও শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনও ইন্ডিগো ফ্লাইট ছাড়বে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার একদিনে ৫৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছিল ইন্ডিগো। শুক্রবার সেই সংখ্যা আরও বেড়ে ৬০০-র উপরে পৌঁছেছে। পরপর দিন ধরে পরিষেবায় ভয়াবহ ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি তুঙ্গে। বেঙ্গালুরু, দিল্লি, হায়দরাবাদ, কলকাতা, প্রায় সব ব্যস্ত বিমানবন্দরেই টার্মিনালের মেঝেতে বসে বা শুয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন বহু যাত্রী। অভিযোগ, যথাযথ খাবার, বিশ্রামের জায়গা বা পরিষ্কার তথ্য কিছুই দিচ্ছে না সংস্থা। একজন ক্ষুব্ধ যাত্রীর কথায়, “১২ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। প্রতি বার বলছে আরও দেরি হবে। এটা এখন দেশের সবচেয়ে খারাপ বিমান সংস্থা।”
বৃহস্পতিবার রাতে যাত্রীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করলেও তাতে পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক হয়নি। বরং ক্রমাগত নতুন যাত্রী নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সামাল দিতে না পারলে টিকিট বিক্রি বন্ধ করা উচিত।
বিষয়টি সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি বিষয়টি রাজ্যসভায় উত্থাপন করেন। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু সঙ্কট মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ করা যায় তা খতিয়ে দেখছেন। ইন্ডিগোর তরফে কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে, পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় প্রয়োজন।
অভূতপূর্ব এই সংকটে যাত্রীদের ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। সার্বিক বিশৃঙ্খলার মধ্যেই এখন অপেক্ষা, কবে স্বাভাবিক হবে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থার পরিষেবা।
