
দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোতে চলমান অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার হঠাৎ করেই এক হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দেশজুড়ে হাজার হাজার যাত্রীর ভোগান্তির শেষ নেই। একই দিনে সংস্থাটি তাদের দৈনিক মোট উড়ানের “অর্ধেকেরও বেশি” বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স। এমন পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে আশ্বাস দিয়েছেন, ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।
এলবার্স জানান, শনিবারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। যদিও ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা কমে “হাজারের নিচে” নেমে আসবে। তাঁর কথায়, “পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। আমাদের অপারেশনের পরিধি এত বড় যে পুনরুদ্ধার ধাপে ধাপে করতে হবে।”
ইন্ডিগোর এই অভূতপূর্ব বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে নতুন বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিধি। এই নতুন নীতিতে পাইলটদের সাপ্তাহিক বিশ্রামের সময় ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে ৪৮ ঘণ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাতের সময় ল্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ কঠোর করা হয়েছে, এক সপ্তাহে ছয়টি রাতের ল্যান্ডিংয়ের বদলে মাত্র দুটি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে সংস্থার শিডিউলিং এবং ক্রু-প্ল্যানিংয়ে বড়সড় চাপ পড়ে।
ইন্ডিগো স্বীকার করেছে, এই পরিস্থিতি মূলত “মিসজাজমেন্ট ও প্ল্যানিং গ্যাপ”-এর ফল। নতুন বিধিতে অভিযোজন করতে গিয়ে সংস্থা যথাযথ পরিকল্পনা করতে পারেনি, আর তাতেই এই ব্যাপক স্তব্ধতা।
অন্যদিকে, বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। যাত্রীদের ক্ষোভ তীব্র হওয়ায় সংস্থাও জানিয়েছে, সমস্ত যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ, রিবুকিং ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তাদের কাস্টমার টিম কাজ করছে।
দেশজুড়ে উৎসবের মরসুমে যেখানে ভ্রমণের চাপ সবচেয়ে বেশি, সেখানে ইন্ডিগোর এই বিপর্যয় সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সবাইকে বিপাকে ফেলেছে। এখন সকলের নজর ১০ ডিসেম্বরের দিকে, সিইও-র প্রতিশ্রুতি মত সত্যিই কি তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে বিমান যাত্রী মহল।
