
কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করার পর নতুন মোড় নিল মামলার পথ। হাই কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কেউ মামলা করলে যেন একতরফা শুনানি না হয় এ কথা জানিয়ে আগেভাগেই ক্যাভিয়েট দাখিল করল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে এই ক্যাভিয়েট জমা পড়েছে, যাতে বলা হয়েছে যদি মামলার আবেদন দাখিল হয়, তা হলে পর্ষদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিতে হবে।
প্রাথমিকে দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রর বেঞ্চ জানায় দুর্নীতি থাকলেও এত বড় সংখ্যক নিয়োগ বাতিল করা যাবে না। ন’বছর ধরে কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি গেলে তাঁদের পরিবার সমস্যায় পড়বে, এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই চাকরি বহাল রাখা উচিত। আদালতের পর্যবেক্ষণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘ব্যাপক অনিয়ম’ প্রমাণিত হয়নি এবং আবেদনকারীদের অসন্তোষের ভিত্তিতে হজারো শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা যায় না।
এখনও পর্যন্ত এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কোনও মামলা হয়নি। তবে সূত্র জানাচ্ছে, আগামী সপ্তাহেই ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। সে কারণেই পর্ষদের তৎপরতা মামলা দায়ের হতেই একতরফা শুনানি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রুখতে আগাম প্রস্তুতি।
পর্ষদ জানিয়েছে, ক্যাভিয়েট দাখিল থাকায় ভবিষ্যতে কোনও পক্ষ মামলা করলে তাদেরও নোটিস দেওয়া হবে, ফলে নিজেদের ব্যাখ্যা রাখার সুযোগ পাবে পর্ষদ। আদালতের রায়ে আরও বলা হয়েছে, যাঁরা চাকরি পেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত দুর্নীতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনও চলছে, তাই চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত এই পর্যায়ে যুক্তিযুক্ত নয়।
প্রাথমিকে নিয়োগ মামলার এই নতুন আইনি মোড়ে এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপে।
