
পাকিস্তানের নতুন সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ঘিরে চলা উত্তেজনার মধ্যে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় জানালেন— ভারতকে পাকিস্তানের সঙ্গে “হাইফেনেট” করে দেখার, অর্থাৎ এক আসনে বসানোর কোনো প্রয়োজন নেই। শনিবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের বাস্তব অবস্থা, তাদের ক্ষমতা, সক্ষমতা আর আন্তর্জাতিক সুনাম বিবেচনা করলে বোঝা যায়, ভারতের সঙ্গে তাদের তুলনা করাই ভুল।”
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীই ভারতের বহু সমস্যার উৎস বলে জানিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তানে এমন সামরিক নেতৃত্ব আছে যারা সন্ত্রাসবাদে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রাখে। তিনি মন্তব্য করেন, “যেমন ভালো ও খারাপ সন্ত্রাসবাদীর তফাৎ আছে, তেমনই আছে ভালো এবং খুব একটা ভালো নয় এমন সামরিক নেতা।” তাঁর মতে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতের অনেক নিরাপত্তা সমস্যার মূল উৎস।
কেন আলোচনার কেন্দ্রে আসিম মুনির
সম্প্রতি পাকিস্তানে বড়সড় সামরিক পুনর্গঠন হয় এবং আসিম মুনিরকে দেশের নতুন ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুনিরের রাজনৈতিক প্রভাব, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং সেনাবাহিনীর অপারেশনাল ভূমিকা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করছে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র এবং কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা ও সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইএসআই-এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে।
জয়শঙ্করও সাম্প্রতিক পহেলগাঁও পর্যটক হামলায় পাকিস্তান সেনার ভূমিকা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন। ওই হামলায় ২৬ জন সাধারণ হিন্দু ও পুরুষ নাগরিক নিহত হন, এবং ভারতের নিরাপত্তা মহলে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়।
বিদেশমন্ত্রী এদিন বলেন, পরিস্থিতি কঠিন হলেও ভারত কোনো অবস্থায়ই নীরব থাকবে না। “যা হওয়ার, আমরা সামাল দেব। ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে।”
জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের অর্থ— পাকিস্তানের হুমকি অথবা সামরিক ভাষ্য নিয়ে ভারত আতঙ্কিত নয়; বরং স্বাধীন কৌশলগত অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
জয়শঙ্করের বক্তব্যে স্পষ্ট— ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হলো ‘অতীতের ছায়া নয়, বর্তমান বাস্তবতা’। দুই দেশের সক্ষমতা, স্থিতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান বিবেচনায় ভারত নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেই এগোতে চায়। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা বা সামরিক নেতৃত্বের হুমকিতে ভারত নিজেকে আর “এক কাঠিতে” মাপার সুযোগ দেবে না।
