
শীত এলেই বাজারে টাটকা মেথি শাকের চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছর কেবল কসুরি মেথি দিয়ে রান্নার স্বাদ মেটালেও এই সময়ে পাওয়া তাজা মেথির গন্ধ আর স্বাদ আলাদা মাত্রা যোগ করে খাবারে। কিন্তু অনেকের রান্নাঘরেই মেথি মানেই দুটি নির্দিষ্ট রেসিপি মেথি পরোটা বা মেথি চিকেন। অথচ এই পুষ্টিকর শাক দিয়ে তৈরি হতে পারে আরও নানা রকমের সহজ, সুস্বাদু ও নতুন ধরনের পদ।
প্রথমেই আসে মেথি কাড়ি। উত্তর ভারতের জনপ্রিয় এই খাবারে বেসন, দই, মশলা আর জিরের সঙ্গে মেশানো হয় টাটকা মেথি পাতা। মেথির হালকা তিতকুটে স্বাদ কাড়ির টক-ঝাল স্বাদের সঙ্গে মিশে তৈরি করে এক অভিনব স্বাদ, যা ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে খেতেই দারুণ লাগে।
প্রাতরাশে চাইলে বানিয়ে নেওয়া যায় মেথি-ডিমের ভুজিয়া। সাধারণ স্ক্র্যাম্বলড এগের বদলে প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচালঙ্কার সঙ্গে মেশান মেথি পাতা। তার পর ফেটানো ডিম ঢেলে হালকা ভেজে নিলেই তৈরি। রুটি বা পাউরুটির সঙ্গে এই পদ যথেষ্ট পুষ্টিকর এবং সহজেই বানানো যায়।
গুজরাতিরা খুবই পছন্দ করেন মেথির থেপলা, যা জলখাবার বা লাঞ্চবক্স দু’জায়গাতেই সমান মানানসই। আটা, বেসন, টক দই, জোয়ান, আদা-লঙ্কা বাটা, ধনে-জিরে গুঁড়ো আর হিংয়ের সঙ্গে মেশানো টাটকা মেথি থেপলাকে দেয় নরম, সুগন্ধি স্বাদ। দীর্ঘ সময় নরম থাকে তাই ভ্রমণেও খুব জনপ্রিয়।
শীতের বাজারে গাজর, কড়াইশুঁটি আর মেথি একসঙ্গে পাওয়া যায় বলেই উত্তর ভারতে বিশেষ জনপ্রিয় গাজর-মেথির তরকারি। সর্ষের তেলে রসুন, পাঁচফোড়ন দিয়ে ভাজা ভাজা এই রান্নাটি হালকা অথচ সুস্বাদু। রুটি বা পরোটার সঙ্গে খেলে শীতের দুপুর জমে ওঠে।
সবশেষে, নিরামিষ রান্নার মধ্যে চিরন্তন প্রিয় মেথি আলু। উত্তর ভারতের ঘরে ঘরে বানানো এই সহজ পদে লাগে কেবল আলু আর মেথি, সঙ্গে জিরে, হিং, শুকনো লঙ্কা এবং ইচ্ছে হলে সামান্য পেঁয়াজ বা রসুন। সর্ষের তেলে ভাজা মেথির সুবাস আলুর সঙ্গে মিশে যে স্বাদ তৈরি করে, তা রুটি থেকে ভাত সবার সঙ্গেই মানিয়ে যায়। শেষে লেবুর রস ছড়িয়ে দিলে বাড়ে স্বাদের তাজা ঝাঁজ।
অর্থাৎ, মেথি শাক মানেই শুধু পরোটা নয়। শীতের এই তাজা শাক দিয়ে তৈরি হতে পারে নানা ধরনের পুষ্টিকর ও সুস্বাদু রেসিপি, যা দৈনন্দিন খাবারে আনতে পারে বৈচিত্র্য আর বাড়িয়ে দিতে পারে রান্নার আনন্দ।
