
ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, দৈনন্দিন দৌড়ঝাঁপ সব মিলিয়ে নিয়ম করে ঘর গুছিয়ে রাখা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। দিনের শেষে বাড়ি ফিরেই যখন চোখে পড়ে এদিক-ওদিক ছড়ানো জামাকাপড়, বই, ফাইল বা অগোছালো টেবিল, তখন বিরক্তি, ক্লান্তি যেন আরও বেড়ে যায়। অন্দরসজ্জা বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম পরিবেশ যেমন মানসিক শান্তি দেয়, তেমনই অগোছালো ঘর মুড খারাপ করার অন্যতম কারণ। তবে সুখবর হল, নিয়মিত ঘর গুছানো না হলেও কিছু বুদ্ধিদীপ্ত সাজসজ্জার কৌশল মানলেই বাড়ি থাকতে পারে ঝকঝকে, সুন্দর।
প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে ‘মিনিমালিজ়ম’-এ। আধুনিক অন্দরসজ্জায় ঘর সাজাতে অনেক জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয় না। উলটে জিনিস যত কম, ঘর তত পরিচ্ছন্ন দেখায়। তাই প্রয়োজন মতো, ভেবে-চিন্তে আসবাব নির্বাচন করাই শ্রেয়। কারুকাজহীন হলেও আধুনিক টেবিল ল্যাম্প, কাঠের সোজাসাপ্টা চেয়ার বা একটি সিম্পল কাউচই ঘরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারে।
দ্বিতীয়ত, কম জিনিস হলেও তা হওয়া উচিত নজরকাড়া। সোফা, কাউচ, পর্দা, দেরাজ সবই অল্প থাকলেও দৃষ্টিনন্দন হলে ঘরের রূপ বদলে যায়। কাঠ বা মার্বেলের মানানসই আসবাব, ছিমছাম ডিজ়াইন আর পরিষ্কার কাপড়ের কভার সব মিলিয়ে ছোট ঘরও বড় দেখাতে পারে।
তৃতীয়ত, আসবাবের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা খুব প্রয়োজনীয়। এলোমেলো ভাবে বিভিন্ন রঙ বা নকশার চেয়ার-টেবিল রাখলে ঘর আরও বিশৃঙ্খল লাগে। তাই আরামদায়ক সোফা, ব্যবহারযোগ্য ওয়ার্ড্রোব এবং মানানসই টেবিল মিলিয়ে রঙ ও ডিজ়াইনে একতা রাখলে ঘর গুছানো না থাকলেও সুশৃঙ্খল দেখায়।
চতুর্থত, এক-দু’টি শিল্পবস্তুই বদলে দিতে পারে পুরো ঘরের চরিত্র। দেওয়ালে একটি নকশিকাঁথা, কাপড়ের আর্টওয়ার্ক, মার্বেলের ফুলদানি বা পিতলের ছোট ভাস্কর্য এসব অতিরিক্ত জিনিস না বাড়িয়েও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। তবে অবশ্যই রুচিবোধের ছোঁয়া থাকতে হবে।
পঞ্চমত, বাইরে বসার আর ভিতরে জিনিস রাখার ‘ডুয়াল-ফাংশন’ আসবাব এখন বেশ জনপ্রিয়। খাটের পাশের দেরাজ, বসার জায়গার নিচে ছোট স্টোরেজ, কাঠের কেবিনেট এগুলি ঘরের সৌন্দর্য বজায় রাখার পাশাপাশি ছোট্ট জিনিস আড়াল করেও রাখে। ফলে ঘর অগোছালো দেখানোর প্রবণতা কমে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নিয়মিত সময় না পেলেও সামান্য সচেতনতা, আসবাবের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার ও সঠিক অন্দরসজ্জাই অগোছালো ঘরকেও মুহূর্তে সুন্দর করে তুলতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যে এটুকু যত্ন নিলেই ঘর ফের শান্তির জায়গা হয়ে ওঠবে।
