
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দু’দিনের ভারত সফর শেষ হতেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত। ভারতের পক্ষ থেকে এ বার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কিকে নয়াদিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে জানা গেছে। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই তাঁর ভারত সফর চূড়ান্ত হতে পারে।
২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারত বারবার জানিয়েছে নয়াদিল্লি নিরপেক্ষ নয়, বরং শান্তির পক্ষে। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখেও পশ্চিমি বিশ্বকে এক ভারসাম্যের বার্তা দিতে চায় ভারত। পুতিনের সফরের কয়েক মাসের মধ্যেই জ়েলেনস্কিকে ভারতে স্বাগত জানানো গেলে সেই কূটনৈতিক বার্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।
মোদী গত বছর রাশিয়া সফরের পরই অগস্টে গিয়েছিলেন ইউক্রেন। সেই ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের আধিকারিক পর্যায়ে আলোচনাও চলছে। যদিও সরকারি ঘোষণা এখনও হয়নি।
জ়েলেনস্কির সফরের সময় নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়েই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর মধ্যস্থতা কতটা ফলপ্রসূ হচ্ছে, তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ চাপ যুদ্ধজট, দুর্নীতির অভিযোগ এ সবই ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউক্রেনের কোনও প্রেসিডেন্ট এর আগে মাত্র তিনবার ভারত সফর করেছেন ১৯৯২, ২০০২ এবং ২০১২ সালে। সেই প্রেক্ষিতে জ়েলেনস্কির সম্ভাব্য সফর ঐতিহাসিকও হতে পারে।
পুতিনের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমি মহলে প্রশ্ন থাকলেও নয়াদিল্লি নিজের অবস্থানে অনড়। রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্প ভারতের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করলেও ভারত রুশ বাণিজ্যনীতি থেকে পিছিয়ে আসেনি। কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এবার জ়েলেনস্কিকে আমন্ত্রণের পথে হাঁটছে ভারত এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
