
বীরভূমে রবিবার বিকেলের নিস্তব্ধতা ভেঙে জল্পনা শুরু করেছে একটি হঠাৎ বৈঠক। সার্কিট হাউসে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে জেলা তৃণমূলের শক্তিশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও জেলার পুলিশ সুপার-এর গোপন বৈঠক ঘিরে জেলার রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন। ছুটির দিনে দুপুর তিনটে থেকে পাঁচটা অস্বাভাবিক সময়েই এই বৈঠক হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভোটের মুখে ঠিক কীসের আলোচনা চলল দু’জনের মধ্যে?
এদিনের বৈঠক এমন সময়ে হয়েছে যখন নানুর ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা তুঙ্গে। গতকালই একটি জনসভা থেকে কেষ্ট বলেন, “এখানে কোনও বাংলাদেশি নেই, রোহিঙ্গা নেই। এ রাজ্যে SIR বা NRC করতে দেওয়া হবে না। এখানের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষ এখানে লড়াই করতে ভয় পায় না।” এই মন্তব্যের পরই জেলার পুলিশ প্রধানের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, SIR নিয়ে বাড়তে থাকা চাপ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক হতে পারে। অন্যদিকে, সম্প্রতি নানুরে সংঘর্ষে এক তৃণমূল নেতা খুন হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে দলেরই অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। নিহত নেতা অনুব্রত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় দলীয় অন্দরের অস্থিরতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
বিজেপি নেতা সজল ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “খুন করানো–না–করানো নিয়েই হয়তো বৈঠক। কে কাকে মারবে, পুলিশ কীভাবে চুপ করে থাকবে এসব নিয়েই পরিকল্পনা হতে পারে।” তাঁর মন্তব্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বিতর্কে।
যদিও প্রশাসন বা তৃণমূল কেউই এখনও বৈঠক নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে ভোটের আগে বীরভূমে তাপমাত্রা যে আরও চড়বে, এই বৈঠক তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
