
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারতীয় চাল রফতানিকে নিশানা করলেন। ইতিমধ্যেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ। তবুও আমেরিকার বাজারে ভারত, থাইল্যান্ড ও চীনের চাল “ডাম্পিং”-এর অভিযোগ তুলে আরও শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে কৃষিক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে লুইজিয়ানার কৃষি উদ্যোক্তা মেরিল কেনেডি অভিযোগ করেন যে বিদেশি চাল আমদানি বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকার দক্ষিণের কৃষকরা সংকটে পড়েছেন। তার কথায়, “ভারত, থাইল্যান্ড, এমনকি চীনা চালও পুয়ের্তো রিকোয় ঢুকছে। বহু বছর ধরে আমরা সেখানে চাল পাঠাতে পারিনি।”
ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, “ভারত কেন এটা করতে পারছে? তাদের কি কোনও ছাড় আছে?” অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এখনও প্রস্তুতির পর্যায়ে। তখনই ট্রাম্প বলেন যে সমস্যার “একদিনেই সমাধান” সম্ভব আরও বেশি শুল্ক আরোপ করলেই হবে।
তিনি আরও জানান, আমেরিকার গাড়ি ও চিপ শিল্পের অর্ধেক নষ্ট হয়েছে বিদেশি উৎপাদনের কারণে, কারণ আগের সরকারগুলো সময়মতো শুল্ক চাপায়নি। এই পরিস্থিতি বদলাতে সুপ্রিম কোর্টে তাঁর জরুরি ক্ষমতা ব্যবহারের মামলায় জয় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল উৎপাদক ১৫ কোটি টন উৎপাদনে বৈশ্বিক বাজারে ২৮ শতাংশ শেয়ার। রফতানির ক্ষেত্রেও ভারত শীর্ষে, ২০২৪-২৫ সালে ৩০.৩ শতাংশ শেয়ার। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি পরিমাণ মাত্র ২.৩৪ লক্ষ টন, যা মোট বাজারের ৫ শতাংশেরও কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন চাপ বাড়লেও বড় ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ এই মুহূর্তে সম্ভাবনা কম। তবে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে শুল্কনীতির অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।
