“১৫০০ টাকার প্লেট খাইয়ে হবে না”, আর পাঁচ তারা হোটেল ও আর না”
বিধানসভা কিংবা লোকসভা, কোথাও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না রাজ্য বিজেপি। বিধানসভার ২০০ আসনের লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। লোকসভায় সেটা ৩৫ আসনের লক্ষ্য মাত্রা ছিল। কিন্তু একটাতেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি বিজেপি। সেই কারণেই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। পঞ্চায়েত ভোট থেকে শুরু করে পুরসভা নির্বাচনে কোথাও ভালো জায়গায় নেই বিজেপি। বর্তমানে দলের সক্রিয় সদস্যদের সংখ্যা এত কম হওয়ার নেপথে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশকে দায়ী করেছেন বেশ কিছু বিজেপি নেতাকর্মীরা।
বুথ থেকে রাজ্যে কমিটি গড়ার জন্য বিজেপির প্রয়োজন প্রায় দু লক্ষ সক্রিয় সদস্য। কিন্তু বাস্তবে দেখতে গেলে কুড়ি শতাংশ পূর্ণ হয়নি। তাই শনিবার সক্রিয় সদস্য সংগ্রহের কর্মসূচি শেষ হয়ে গেলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য আরো এক সপ্তাহ সময় বরাদ্দ করে দেওয়া হয়। আর সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের অনেকেই। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি রাজকমল পাঠক এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন “আমাদের কোনও ডাক নেই। কাউকে ডাকবে না, দলটা এগোবে কী করে? সম্ভব নয়। শুনলাম, মাত্র ৪০ হাজার সক্রিয় সদস্য। অথচ বুথের সংখ্যা ৮০ হাজার। তাহলে তো বুথে লোকই দিতে পারব না! ফাইভ স্টার হোটেলে বসে মিটিং করে, ১৫০০ টাকার প্লেট খাইয়ে হবে না। দলটা কোনও কর্পোরেট অফিস নয়।”
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বে সমালোচনায় সড়ক হয়েছেন রাজ্য বিজেপির আরো এক প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়। সুকান্ত মজুমদারের পরিবর্তে যাতে শুভেন্দু অধিকারী কে সরাসরি বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে আসীন করা যায় তারই দাবি তুলেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তথাগত রায় বলেছেন, “পূর্ণ সময়ের সভাপতি না থাকলে দল এগোবে কী করে? কাজ চালানোর দায়িত্ব কে নেবে? দলকে চালাবে কে? পার্ট টাইম সভাপতি দিয়ে দল চালানোর চেষ্টা করলে, যা হওয়ার হবে। আগাগোড়া বলে আসছি। রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি হওয়ার জন্য একমাত্র যোগ্য লোক শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ নিয়ে ততটা উৎসাহই নেই, যতটা ২০২১ নিয়ে ছিল।”
রাজ্য বিজেপির মধ্যে অসন্তোষের এই ফলস্বরূপ অস্বস্তি তৈরি হয়েছে দলের অন্দরে। এই প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হয়ে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র সমিক ভট্টাচার্য জানান, “সক্রিয় সদস্যতা দলের গঠনতন্ত্রের বিষয়। ঠিক সময়ে বাংলার মানুষ বুথে বিজেপি-কে দেখতে পাবে। তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যাচ্ছে। তৃণমূলকে বিজেপি-ই বিসর্জন দেবে, বিজেপি-র বুথকর্মী এবং সক্রিয় সদস্যরাই”।
