
কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী সুজিত বসু ও প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দর্শকদের দুরবস্থার বিস্তারিত বিবরণ দেন।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, মেসি যুবভারতীতে প্রবেশ করার পরই প্রায় একশো জন নেতা-মন্ত্রী, তাঁদের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। ফলে গ্যালারিতে বসে থাকা সাধারণ দর্শকদের পক্ষে মাঠে মেসিকে দেখার কোনও সুযোগই ছিল না। তাঁর দাবি, হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আসা ফুটবলপ্রেমীরা শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটের জন্য জায়ান্ট স্ক্রিনে মেসির ঝলক দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হন।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, দর্শকদের সঙ্গে জলের বোতল পর্যন্ত নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে বাইরে ২০ টাকার জল স্টেডিয়ামের ভিতরে ২০০ টাকায় কিনতে হয়েছে বলে অভিযোগ। শুভেন্দুর মতে, এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের উপস্থিতিতেই সুযোগ নিয়ে ব্যবসা হয়েছে এবং সাধারণ দর্শক প্রতারিত হয়েছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা তিন দফা দাবি তুলেছেন। প্রথমত, গ্যালারিতে উপস্থিত সমস্ত দর্শককে শতভাগ টিকিটের মূল্য ফেরত দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায়ে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী সুজিত বসু এবং প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করতে হবে। তৃতীয়ত, গোটা বিশ্বের সামনে পশ্চিমবঙ্গের সম্মানহানির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে।
ভোটের আগে মেসির সঙ্গে ছবি তুলে ‘খেলা হবে’ স্লোগান তোলার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রতারিত দর্শকরাই এই ‘খেলার’ জবাব দিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগগুলি নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্টদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
